তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

লন্ডনে পাঁচ বছরে বাড়িভাড়া ৯.৭ শতাংশ কমার সম্ভাবনা

লন্ডনে পাঁচ বছরে বাড়িভাড়া ৯.৭ শতাংশ কমার সম্ভাবনা

লন্ডন, ২ নভেম্বর:

লন্ডনে বাড়িভাড়া কমাতে নতুন আবাসন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সরকারের নির্ধারিত আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা গেলে আগামী পাঁচ বছরে লন্ডনের ভাড়া বর্তমান নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার তুলনায় প্রায় ৯.৭ শতাংশ কম হতে পারে। এতে মধ্য লন্ডনে দুই বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের মাসে প্রায় ২৫১ পাউন্ড সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর ব্রিটিশ প্রগ্রেস (সিবিপি)। গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, লন্ডনে আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে নতুন বাড়ি নির্মিত হয়নি। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লন্ডনের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৫৩ হাজার। কিন্তু এ সময়ে যত নতুন আবাসন নির্মিত হয়েছে, তা দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৭ হাজার মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, সরকারের জাতীয় আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে লন্ডনের আবাসনসংখ্যা বছরে প্রায় ২.৩ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। এতে পাঁচ বছরে ভাড়ার ওপর চাপ কমবে। গবেষকদের ব্যাখ্যা, নতুন বাড়ি নির্মিত হলে সামর্থ্যবান পরিবারগুলো সেখানে চলে যাবে। ফলে তারা যেসব পুরোনো বাড়ি ছেড়ে যাবে, সেগুলো অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষের জন্য ভাড়ার বাজারে উন্মুক্ত হবে। এভাবে একের পর এক বাড়ি পরিবর্তনের মাধ্যমে সামগ্রিক ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বাড়বে।

ইস্ট লন্ডনের ভাড়াটিয়াদের জন্যও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য পূর্বাভাস রয়েছে। পাঁচ বছর পর দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য মাসিক ভাড়ায় নিউহামে ২১৩ পাউন্ড এবং টাওয়ার হ্যামলেটসে ২৫৯ পাউন্ড সাশ্রয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। হ্যাকনিতে সম্ভাব্য সাশ্রয় ২৬৬ পাউন্ড। তবে এসব হিসাব বর্তমান নির্মাণের ধারার তুলনায় অতিরিক্ত বাড়ি নির্মাণের ফলে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পূর্বাভাস; এখনকার ভাড়া থেকে সরাসরি ওই পরিমাণ কমে যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে লন্ডনের বাসিন্দারা আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় করেন। নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো গেলে শুধু ভাড়াটিয়ারাই উপকৃত হবেন না, কাউন্সিলগুলোর অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থাপনার খরচও কমতে পারে। গবেষকদের হিসাব, নতুন নির্মিত বাড়ির মাত্র ১০ শতাংশ সামাজিক আবাসন হিসেবে বরাদ্দ করা গেলেও লন্ডনে অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর বছরে প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে ইংল্যান্ডে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে লন্ডনে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। তবে উচ্চ নির্মাণব্যয়, সুদের হার, জমির সংকট ও পরিকল্পনা অনুমোদনের জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের লন্ডন প্ল্যানেও আগামী দশকে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার ৮০০ বাড়ি নির্মাণের সক্ষমতার কথা উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনের আবাসনসংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণ করলেই হবে না; নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে ভাড়া রাখা, সামাজিক আবাসন বাড়ানো এবং কাউন্সিলের আবাসন প্রকল্প সম্প্রসারণও জরুরি। কারণ নতুন বাড়ির অধিকাংশই যদি উচ্চমূল্যের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের সংকট দ্রুত কাটবে না।

তবে সেন্টার ফর ব্রিটিশ প্রগ্রেসের হিসাবটি একটি গবেষণাভিত্তিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস, সরকারের ঘোষিত ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নয়। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন, নতুন বাড়ির ধরন এবং বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে লন্ডনের ভাড়াটিয়ারা কতটা উপকৃত হবেন।