যুক্তরাজ্যের মজুত গ্যাস দিয়ে আর মাত্র দেড় দিন চলবে!
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৯ মার্চ: ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মজুত গ্যাস মাত্র দেড় দিনের চাহিদা মেটানোর মতো রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপের মধ্যে বর্তমানে যুক্তরাজ্যকেই সর্বোচ্চ পাইকারি গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শিপিং চ্যানেল বন্ধ করেছে।
ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের গ্যাস মজুত গত বছরের ১৮,০০০ GWh থেকে কমে মাত্র ৬,৭০০ GWh এ নেমে এসেছে, যা মাত্র ১.৫ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। একই পরিমাণ মজুত রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) হিসেবে।
ইউরোপ গ্যাস সরবরাহে ওঠানামা সামলাতে অনেক বেশি প্রস্তুত; সেখানে কয়েক সপ্তাহের চাহিদা মেটানোর মতো গ্যাস মজুত রয়েছে।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ম্যানচেস্টারের কিছু পেট্রোল স্টেশনে ইতিমধ্যেই জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। মানুষের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অক্সফোর্ডের পেমব্রোক কলেজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. রবার্ট জনসন মেট্রোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এটি ১৯৭৩ সালের ব্রিটেনের তেল সংকটের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
১৯৭৩ সালে, ইয়ম কিপুর যুদ্ধের সময় ইসরায়েলকে সমর্থন করা যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওপেকের আরব সদস্যরা তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
ড. জনসন মেট্রোকে বলেন, “এর ফলে তিন দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে হয়েছিল, অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছিল এবং বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে আবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—বিশেষ করে যখন যুক্তরাজ্য সরকার নিজ দেশের নর্থ সি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করেছে। এই সংকটে সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”