ট্রাম্পের ‘বিজয়’ ধারণা নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ: যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১১ মার্চ:
ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে “বিজয়” বলতে ট্রাম্প যা বোঝেন, তা হয়তো ইসরায়েলের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টি এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের মধ্যে বড় কোনো মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তাঁর দৃষ্টিতে সামরিক অভিযান হয়তো ইসরায়েল যতটা সময় ধরে চালিয়ে যেতে চায়, তার আগেই শেষ করা সম্ভব।
এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে ইসরায়েল সামরিক অভিযানের গতি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। কারণ, যদি যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইসরায়েল তার সামরিক লক্ষ্যগুলো যত দ্রুত সম্ভব অর্জন করতে চাইবে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতায় কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, লক্ষ্য নির্বাচন ও সামগ্রিক কৌশল আগের মতোই চলছে।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই এই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে যাচ্ছে।
অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানা হয়েছে। তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু রয়ে গেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী বিশেষভাবে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার জন্য এই ড্রোন ব্যবস্থাই বেশি ব্যবহার করে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে ওই দেশগুলোর দিকে ছোড়া ড্রোনের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।