ব্রিটেনে বাজেট নিয়ে দ্বন্দ্বে স্টারমারের সরকারের বড় ধাক্কা: প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলির পদত্যাগ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ জুন :
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলির আকস্মিক পদত্যাগে। সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি পদ ছাড়েন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
হিলি তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান Defence Investment Plan (DIP) দেশের নিরাপত্তা চাহিদার তুলনায় “অপর্যাপ্ত” এবং এটি বাস্তব সামরিক হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, সরকার যে অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে তা যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা ব্যয় ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির প্রায় ২.৬৮ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হলেও হিলির মতে, এই বৃদ্ধি “অত্যন্ত ধীর ও বিলম্বিত”। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, অথচ পরিকল্পিত বাজেট কাঠামো সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরকারের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের প্রকাশ। বিশেষ করে ট্রেজারি বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে মতবিরোধই এই সংকটকে তীব্র করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পূর্বে প্রতিরক্ষা ব্যয় ধাপে ধাপে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও দ্রুত অর্থায়নের প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ বিভাজন দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ বলছে, উচ্চ ঋণ ও বাজেট ঘাটতির কারণে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের তাৎক্ষণিক ব্যয় বাড়াতে অনাগ্রহী।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, বিশেষ করে ইউরোপে রাশিয়ার হুমকি ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা বাজেটে বিলম্ব যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
জন হিলির পদত্যাগকে ঘিরে লন্ডনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নাকি অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, কোনটি সরকারের নীতিনির্ধারণে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে?
এই ঘটনার ফলে স্টারমার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় ভবিষ্যতে বাজেট নিয়ে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।