রেকর্ড চাপ NHS-এ: ইংল্যান্ডে ডায়াগনস্টিক টেস্টের অপেক্ষায় ১৯ লাখের বেশি রোগী !
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ জুন:
ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (NHS) এখন ডায়াগনস্টিক টেস্টের ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছে। নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১.৯২ মিলিয়ন (১৯ লাখ ২০ হাজার) রোগী বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা—যেমন CT স্ক্যান, MRI, আল্ট্রাসাউন্ডসহ অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টের জন্য অপেক্ষা করছেন। এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড উচ্চতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই বিশাল অপেক্ষমাণ তালিকার মধ্যে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতি পাঁচজনের একজন রোগী ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন, যা NHS-এর নির্ধারিত সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি।

ছয় সপ্তাহের লক্ষ্য ভাঙছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
NHS-এর নিয়ম অনুযায়ী, ডায়াগনস্টিক টেস্ট সাধারণত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ৪ লাখেরও বেশি রোগী এই সীমা অতিক্রম করেছেন। বিশেষ করে CT ও MRI স্ক্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বিলম্ব বেশি হচ্ছে, যা ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগ নির্ণয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দেরি রোগ নির্ণয়ের সময়কে পিছিয়ে দিচ্ছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হচ্ছে—যা রোগীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চাপ কেন বাড়ছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে—
- বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের সংখ্যা বাড়া
- পরীক্ষার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া
- রেডিওলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান সংকট
- পূর্ববর্তী কোভিড-১৯ ব্যাকলগ
বিশেষ করে MRI ও CT স্ক্যানের চাহিদা এত বেশি যে অনেক হাসপাতালেই সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে রোগীরা দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন।
হাসপাতালগুলোর পারফরম্যান্সেও বড় বৈষম্য
নতুন তথ্য অনুযায়ী, কিছু NHS ট্রাস্ট নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেও অনেক প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে আছে। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক হাসপাতাল ছয় সপ্তাহের মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগী পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না।
ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে
CT ও MRI স্ক্যান সাধারণত ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্নায়বিক সমস্যার মতো গুরুতর রোগ শনাক্তে ব্যবহৃত হয়। দেরির কারণে অনেক রোগীর রোগ ধরা পড়ছে দেরিতে, যা চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।
রয়্যাল কলেজ অব রেডিওলজিস্টস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কয়েক মাসের দেরিও রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় চেষ্টা চলছে
NHS বলছে, তারা কমিউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বাড়াচ্ছে এবং অতিরিক্ত টেস্টিং সক্ষমতা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অবকাঠামো বাড়ালেই হবে না—দীর্ঘমেয়াদি জনবল সংকট সমাধান করাও জরুরি।
এদিকে কিছু পরিষেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে দেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।
সামনে কী?
বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে অপেক্ষমাণ তালিকা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এখনই কার্যকর সংস্কার না আনা হয়, তাহলে এই সংকট শুধু সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং এটি সরাসরি রোগীদের জীবন ও মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।