‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
সৌদি আরবে সংঘাতের প্রভাব: অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক ও রেমিট্যান্স
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৩ অক্টোবর :
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশে কাজে যোগ দিতে যাওয়া এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রবাসী আয়ের উৎস। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি আরব থেকে ১৯৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৭
রিয়াদ বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আরও ২৭ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত শ্রমিক এবং ১৬ জন ওমরাহযাত্রী। আহতদের কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফ্লাইট বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে পরিচালিত ৫১টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা ব্যাহত হয়েছে। এতে অন্তত ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন।
বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে নতুন কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়া, ছুটিতে দেশে আসা শ্রমিকদের ফিরে যাওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভিসার মেয়াদ ও চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন অনেক কর্মী।
রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানে কী প্রভাব পড়তে পারে?
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে নতুন নিয়োগ কমে যাওয়া, কাজের পরিবেশে অনিশ্চয়তা এবং শ্রমিকদের আয় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় কমে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য নেই।
বাংলাদেশের জন্য জরুরি হলো প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং শ্রমবাজারে সম্ভাব্য পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া। পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগও জোরদার করা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু পররাষ্ট্রনীতি বা জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি লাখো পরিবারের জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও আয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।