তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

শীতের আগেই ঘরে ছয় জরুরি জিনিস রাখার পরামর্শ ব্রিটিশ গ্যাসের

শীতের আগেই ঘরে ছয় জরুরি জিনিস রাখার পরামর্শ ব্রিটিশ গ্যাসের

লন্ডন, ১৩ অক্টোবর : যুক্তরাজ্যে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে ঘরে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখা এবং হিটিং ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ গ্যাস। শীতের তীব্রতা বাড়লে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, হিটিং ব্যবস্থা বিকল হওয়া কিংবা পানির পাইপ জমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ গ্যাসের শীতকালীন প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনায় জরুরি খাদ্য ও পানীয়, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, উষ্ণ পোশাক এবং কম্বলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জরুরি প্রস্তুতি নির্দেশনাতেও বিদ্যুৎ বা পানির সরবরাহ ব্যাহত হলে কয়েক দিন চলার মতো প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে রাখার পরামর্শ রয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগতে পারে এমন ছয়টি সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

১. টর্চলাইট ও অতিরিক্ত ব্যাটারি: বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের ভেতরে চলাচল এবং প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ব্যাটারিচালিত বা হাত দিয়ে চার্জ করা যায় এমন টর্চ কাজে আসতে পারে। মোমবাতির তুলনায় টর্চ নিরাপদ বিকল্প।

২. মোবাইল ফোনের পাওয়ার ব্যাংক: বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং জরুরি তথ্য জানার জন্য ফোন সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগে থেকে চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাংক হাতের কাছে রাখা যেতে পারে।

৩. পানীয় জল: সরবরাহে সমস্যা হলে ব্যবহার করার জন্য বোতলজাত পানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সরকারি জরুরি প্রস্তুতি নির্দেশনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ উদ্ধৃত করে প্রতি ব্যক্তির জন্য দৈনিক অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানীয় জলের কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মজুত নির্ধারণ করতে হবে।

৪. দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার: রান্না করা সম্ভব না হলে খাওয়া যায় এমন খাবার, টিনজাত খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ঘরে রাখা যেতে পারে। পরিবারের শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণীর বিশেষ প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখা দরকার।

৫. গরম পোশাক ও অতিরিক্ত কম্বল: হিটিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে উষ্ণ পোশাক, কম্বল ও স্লিপিং ব্যাগ সহায়ক হতে পারে। ঠান্ডার সময় ঘরের তাপমাত্রা বজায় রাখার পাশাপাশি বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

৬. প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী: জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ, ব্যান্ডেজ, জীবাণুনাশক এবং অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী কাজে আসতে পারে। কয়েক দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা।

শুধু জরুরি সামগ্রী মজুত রাখাই নয়, শীত শুরুর আগে ঘরের হিটিং ব্যবস্থা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ গ্যাসের মূল প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রিকার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তাদের উপাত্ত অনুযায়ী গ্রীষ্মের পর আবার হিটিং চালু করার সময় বয়লারের ৪০ শতাংশ বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শ, প্রচণ্ড ঠান্ডা শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে আগেই হিটিং চালিয়ে দেখা উচিত।

ব্রিটিশ গ্যাসের নির্দেশনায় পানির পাইপে নিরোধক লাগানো, ধোঁয়া শনাক্তকারী অ্যালার্ম ও কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী যন্ত্র পরীক্ষা করা এবং বয়লারের প্রয়োজনীয় সার্ভিস করানোর কথাও বলা হয়েছে। ঠান্ডায় পাইপ ফেটে গেলে দ্রুত পানির সরবরাহ বন্ধ করার জন্য মূল পানির ভাল্‌ভ বা স্টপকক কোথায় রয়েছে, তা জেনে রাখাও জরুরি।

যুক্তরাজ্য সরকারের জরুরি প্রস্তুতি নির্দেশনায় অন্তত কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সব পরিবারকে একসঙ্গে সবকিছু কিনতে হবে, এমন নয়; পরিবারের সদস্যসংখ্যা, ওষুধের প্রয়োজন এবং আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নেওয়া যায়।