পূজা-পার্বণ ও বড়দিনে অংশগ্রহণ, শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা

শিরক না করে অমুসলিমদের সহায়তা কতটুকু করা যায়?

শিরক না করে  অমুসলিমদের সহায়তা কতটুকু করা যায়?

ধর্ম ডেস্ক, ভয়েস অব পিপল, ১৭ অক্টোবর:

ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে অমুসলিমদের কতটুকু সাহায্য করা যায়? হিন্দুদের পূজা-পার্বণ কিংবা খ্রিষ্টানদের বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, শুভেচ্ছা জানানো, উপহার দেওয়া বা আর্থিক সহযোগিতা করা কি শিরক? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে—একটি হলো তাওহিদের প্রতি অবিচল থাকা, অন্যটি হলো ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সদাচরণ ও মানবিক দায়িত্ব পালন।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে যেমন বিশ্বাসের সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে, তেমনি অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়বিচার, সৌজন্য ও সহমর্মিতারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত ৮-এ আল্লাহ বলেছেন, যারা ধর্মের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তাঁদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।

এ আয়াতের শিক্ষা হলো, কেউ অমুসলিম—শুধু এ কারণে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, ন্যায্য অধিকার অস্বীকার করা কিংবা বিপদের সময় সাহায্য না করা ইসলামের নির্দেশ নয়। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

সুরা লুকমানের ১৫ নম্বর আয়াতেও আল্লাহ এমন মা-বাবার সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করতে বলেছেন, যাঁরা সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে চাপ দেন। অর্থাৎ, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আপস না করেও মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অমুসলিমদের প্রতি রাসুল (সা.)-এর আচরণ

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের জন্য নন, সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর জীবন ছিল তাওহিদের প্রতি অবিচলতা, ন্যায়বিচার, দয়া ও মানবিক মর্যাদার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অমুসলিমদের সঙ্গে তাঁর আচরণের কয়েকটি ঘটনা আজও ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

অমুসলিমদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও রয়েছে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।

একদিন এক ইহুদির জানাজা অতিক্রমকালে তিনি দাঁড়িয়ে গেলে সাহাবিরা জানান, সেটি একজন ইহুদির জানাজা। তখন তিনি বলেন, “সে কি একজন মানুষ নয়?” (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩১২–১৩১৩)।

এক ইহুদি কিশোর অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৬৫৭)।

তিনি এক ইহুদির কাছ থেকে বাকিতে খাদ্যশস্য কিনে নিজের লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৬৮)।

আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর অমুসলিম মা তাঁর কাছে এলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬২০)।

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এক দর্জির আমন্ত্রণে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। তবে এ বর্ণনায় দর্জির ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৪৩৯)।

এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, অমুসলিমদের সঙ্গে বৈধ লেনদেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, অসুস্থের সেবা করা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণের সীমা কোথায়?

হিন্দুদের দুর্গাপূজা, কালীপূজা কিংবা অন্য পূজার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের করণীয় নির্ধারণে ধর্মীয় আচার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পার্থক্য বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিমার সামনে প্রণাম করা, পূজার মন্ত্র পাঠ করা কিংবা অন্য উপাস্যের উদ্দেশে উপাসনামূলক নিবেদন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের পরিপন্থী। একজন মুসলিমের এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

একইভাবে পূজার উপাসনামূলক আচার আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট উপকরণ সরবরাহ বা অর্থায়নের বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন। অনেক আলেম এ ধরনের সহযোগিতা অনুমোদন করেন না।

তবে পূজার সময় কোনো হিন্দু প্রতিবেশী অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা আলাদা মানবিক কাজ। এগুলোকে পূজার উপাসনায় অংশগ্রহণের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

সুতরাং, পূজার মণ্ডপে গিয়ে উপাসনামূলক আচার পালন করা এবং একই এলাকায় বসবাসকারী মানুষের প্রতি সৌজন্য দেখানো এক বিষয় নয়।

বড়দিনে শুভেচ্ছা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ

খ্রিষ্টানদের বড়দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো, উপহার দেওয়া কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

কিছু আলেম ধর্মীয় উৎসবকেন্দ্রিক শুভেচ্ছা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে মিসরের দারুল ইফতার মতো কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসবিরোধী কোনো বক্তব্য বা আচার না থাকলে অমুসলিমদের শুভেচ্ছা জানানো ও সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—কাউকে শুভেচ্ছা জানানো মানেই তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ করা নয়। একইভাবে বড়দিন উপলক্ষে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে খাবার খাওয়া আর গির্জার উপাসনায় অংশ নিয়ে ধর্মীয় প্রার্থনা করা এক বিষয় নয়।

একজন মুসলিম নিজের বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে প্রতিবেশী ও সহকর্মীর সঙ্গে সৌজন্য বজায় রাখতে পারেন। তবে কোনো অনুষ্ঠানে উপাসনামূলক আচার থাকলে নিজের বিশ্বাসবিরোধী অংশ থেকে বিরত থাকা উচিত। নির্দিষ্ট আয়োজনের বিধান নিয়ে সন্দেহ থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

অমুসলিমদের আর্থিক সহায়তা করা যাবে?

অমুসলিম দরিদ্র ব্যক্তি, অসুস্থ প্রতিবেশী কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারকে ব্যক্তিগত অর্থ থেকে সাহায্য করা যায়। খাবার, পোশাক, চিকিৎসার খরচ কিংবা দুর্যোগে পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা করা মানবিক কাজ।

তবে ধর্মীয় উপাসনা বা আচার পরিচালনার উদ্দেশ্যে সরাসরি অর্থায়ন ভিন্ন বিষয়। সুরা আল-মায়িদার ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতা করতে বলেছেন এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন।

অতএব, কোনো অমুসলিমের চিকিৎসার জন্য অর্থ দেওয়া এবং তাঁর ধর্মীয় উপাসনার ব্যয় বহন করা এক নয়। একইভাবে পূজার সময় দরিদ্র মানুষকে খাবার দেওয়া আর পূজার আচার পরিচালনার জন্য উপকরণ সরবরাহ করা পৃথক বিষয়।

এখানে জাকাতের বিধানও আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ দান-সদকা ও ফরজ জাকাত এক নয়; জাকাতের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত খাত ও সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস

একজন মুসলিম অমুসলিম প্রতিবেশীকে উপহার দিতে পারেন, তাঁর অসুস্থতার খোঁজ নিতে পারেন, শোকের সময়ে সমবেদনা জানাতে পারেন এবং মানবিক প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে পারেন। তবে ধর্মীয় উপাসনা বা বিশ্বাসবিরোধী আচার পালনের প্রয়োজন নেই।

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করার অর্থ সব ধর্মীয় বিশ্বাসকে একই বলে স্বীকার করা নয়। আবার নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে অবিচল থাকার অর্থ অন্য ধর্মের মানুষকে অপমান করা বা তাঁদের ন্যায্য অধিকার অস্বীকার করাও নয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখা এবং মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও সদাচরণপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

বড়দিনে ‘মেরি ক্রিসমাস’ বলা কি শিরক?

ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে কিংবা বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগে বড়দিনের সময় ‘মেরি ক্রিসমাস’ (Merry Christmas) বলা একটি পরিচিত সৌজন্যমূলক রীতি। কিন্তু একজন মুসলিমের এ শুভেচ্ছা জানানো কি শিরক, নাকি এটি সামাজিক সম্প্রীতি প্রকাশের একটি উপায়?

এ বিষয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু আলেমের মতে, বড়দিনের ধর্মীয় তাৎপর্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকা উচিত। তাঁদের যুক্তি, মুসলিমের এমন কোনো বক্তব্য বা আচরণ করা উচিত নয়, যা ইসলামের আকিদাবিরোধী ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করে বলে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে, মিসরের দারুল ইফতা ২০১৩ সালে প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় এবং ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত বড়দিনের শুভেচ্ছাবিষয়ক ফতোয়ায় বলেছে, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসবিরোধী কোনো বক্তব্য বা আচার না থাকলে অমুসলিমদের শুভেচ্ছা জানানো এবং তাঁদের সঙ্গে সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে।

দারুল ইফতার ব্যাখ্যায়, শুভেচ্ছা জানানো মানেই অন্য ধর্মের বিশ্বাসকে সত্য বলে স্বীকার করা নয়। তবে ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সৌজন্যকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য এ পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খ্রিষ্টান সহকর্মীকে ‘মেরি ক্রিসমাস’ বলা মানেই তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ করা কিংবা খ্রিষ্টীয় আকিদাকে সত্য বলে স্বীকার করা—এমন সিদ্ধান্ত অনিবার্য নয়। একইভাবে প্রতিবেশীর সঙ্গে উৎসবের সৌজন্য বিনিময় করা আর গির্জায় গিয়ে ধর্মীয় প্রার্থনা বা উপাসনায় অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়।

তবে যাঁরা সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন, তাঁরা এ ধরনের শুভেচ্ছা এড়িয়ে চলতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা সামাজিক সৌজন্যের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানান, তাঁদের ক্ষেত্রেও নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য বা আচরণ পরিহার করা জরুরি। মতভেদের এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একে অপরকে শিরককারী বা ইসলামবিরোধী বলে অভিযুক্ত না করে দলিল, প্রেক্ষাপট ও আলেমদের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা উচিত।

সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া আর উপাসনায় অংশ নেওয়া এক নয়

বড়দিন উপলক্ষে কোনো সহকর্মীর বাড়িতে সামাজিক দাওয়াতে যাওয়া, খাবার গ্রহণ, উপহার দেওয়া কিংবা প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের বিধান অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করতে পারে। এসব বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু খ্রিষ্টীয় উপাসনায় অংশ নেওয়া, অন্য উপাস্যের উদ্দেশে প্রার্থনা করা কিংবা নিজের বিশ্বাসের পরিপন্থী ধর্মীয় আচার পালন করা থেকে মুসলিমের বিরত থাকা উচিত।

একই নীতি হিন্দুদের পূজা-পার্বণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পূজার উপাসনামূলক আচার পালন করা এবং পূজার সময় কোনো হিন্দু প্রতিবেশীর অসুস্থতায় সাহায্য করা এক বিষয় নয়।

অতএব, ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত—শুভেচ্ছা বা সামাজিক যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী, তাতে কোনো ধর্মীয় উপাসনায় অংশ নিতে হচ্ছে কি না এবং নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বক্তব্য বা কাজ করতে হচ্ছে কি না। ধর্মীয় বিশ্বাসে অবিচল থাকা এবং অন্যের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী নয়।

মোদ্দা কথা হচ্ছে, শিরক থেকে বেঁচে থাকার অর্থ মানবিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। একজন মুসলিম নিজের তাওহিদি বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেই অমুসলিম প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে পারেন, অসুস্থের সেবা করতে পারেন, দরিদ্রকে খাবার দিতে পারেন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারেন।

অন্যদিকে পূজা বা উপাসনামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সেই উদ্দেশ্যে সরাসরি সহযোগিতার বিধান আলাদা। শুভেচ্ছা, সামাজিক সৌজন্য ও ধর্মীয় উপাসনাকে একইভাবে বিবেচনা না করে প্রতিটি কাজের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য বুঝতে হবে।

মূলনীতি হলো—বিশ্বাসে আপসহীনতা, আচরণে সৌজন্য, মানুষের অধিকারে ন্যায়বিচার এবং সৎকর্মে সহযোগিতা।

তথ্যসূত্র

১. আল-কোরআন: সুরা আল-মুমতাহিনা, ৮–৯; সুরা লুকমান, ১৪–১৫; সুরা আল-মায়িদা, ২।

২. সহিহ বুখারি: হাদিস ১৩১২–১৩১৩ (ইহুদির জানাজায় দাঁড়ানো); ৫৬৫৭ (অসুস্থ ইহুদি কিশোরকে দেখতে যাওয়া); ২০৬৮ (ইহুদির সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন); ২৬২০ (অমুসলিম মায়ের সঙ্গে সদাচরণ); ৫৪৩৯ (দর্জির আমন্ত্রণে খাবার গ্রহণ)।

৩. মিসরের দারুল ইফতা: Permissibility of Congratulating Non-Muslims on Their Religious Festivals; Congratulating Non-Muslims on Christmas (২ ডিসেম্বর ২০২৪)।

৪. ফতোয়াবিষয়ক তুলনামূলক আলোচনা: Darul Iftaa Chicago, Cordial Celebration of Non-Muslim Holidays।