গ্রীষ্মের আগে এয়ার কন্ডিশনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের £২,৫০০ সরকারি অনুদান ঘোষণা

গ্রীষ্মের আগে এয়ার কন্ডিশনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের £২,৫০০ সরকারি অনুদান ঘোষণা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২১ এপ্রিল: 

ব্রিটেনে গ্রীষ্ম যতই ঘনিয়ে আসছে, ঘরবাড়িগুলোতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও বড় উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে। গত কয়েক বছরের মতো এবারও গরম বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই বাস্তবতায় সরকার নতুন একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে—ঘর ঠান্ডা রাখতে এয়ার কন্ডিশন বা এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্প বসানোর জন্য দেওয়া হবে £২,৫০০ পর্যন্ত অনুদান।

এই অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পরিবারগুলোর জন্য, এবং এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে চলতি মাসের ২৮ এপ্রিল থেকে।

যুক্তরাজ্য সরকার আগে থেকেই “Boiler Upgrade Scheme (BUS)” নামে একটি প্রকল্প চালু রেখেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্যাস বয়লারসহ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক হিটিং সিস্টেম বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব হিট পাম্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।

এতদিন এই স্কিমের আওতায় শুধু এয়ার সোর্স এবং গ্রাউন্ড সোর্স হিট পাম্পের জন্য £৭,৫০০ পর্যন্ত অনুদান পাওয়া যেত। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্পও এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘর গরম করার পাশাপাশি ঠান্ডা রাখার প্রযুক্তিকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হলো।

এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্প কী?

এই প্রযুক্তিটি মূলত বাইরের বাতাস থেকে তাপ গ্রহণ করে ঘরের ভেতরের বাতাসকে গরম বা ঠান্ডা করে। সাধারণ হিট পাম্প যেখানে মূলত ঘর গরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেখানে এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্প একই সঙ্গে গরম ও ঠান্ডা—দুই ধরনের সুবিধাই দিতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি গ্রীষ্মকালে একটি এয়ার কন্ডিশনারের মতো কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, এক যন্ত্রে দুই মৌসুমের সমাধান।

তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এটি গরম পানি সরবরাহ করে না। ফলে গরম পানির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি গ্যাস বয়লার বা অন্য হিটিং সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।

কারা এই অনুদান পাবেন?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই অনুদান পেতে হলে আপনাকে পুরোনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক হিটিং সিস্টেম—বিশেষ করে গ্যাস বয়লার—বন্ধ করে দিতে হবে। অর্থাৎ, যারা পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে যাচ্ছে, তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে অনেকেই গ্যাস বয়লারের পাশাপাশি আলাদা করে ছোট এয়ার-টু-এয়ার ইউনিট ব্যবহার করে থাকেন, বিশেষ করে শোবার ঘর বা লিভিং রুম ঠান্ডা রাখার জন্য। কিন্তু নতুন স্কিমে সেই ধরনের মিশ্র ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

বাড়ছে গরম, বাড়ছে চাহিদা

যুক্তরাজ্যে গরমের প্রবণতা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর দেশটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ গ্রীষ্মকাল দেখেছে। চারটি বড় তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়।

এর প্রভাব সরাসরি বাজারেও পড়ে। গত জুলাই মাসে হঠাৎ করেই পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং বড় খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই প্রবণতা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে।

খরচ ও বাস্তবতা

এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্প তুলনামূলকভাবে অন্যান্য সিস্টেমের চেয়ে সস্তা। সাধারণত একটি সিঙ্গেল রুম ইউনিটের দাম £১,৫০০ থেকে £৩,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে। সেই তুলনায় £২,৫০০ অনুদান অনেক পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে গ্যাস নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব হিটিং ও কুলিং সিস্টেমে যেতে চাইছে।

বড় পরিকল্পনার অংশ

এই উদ্যোগটি একা নয়। গত কয়েক মাসে সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মানুষকে উৎসাহিত করতে। যেমন—সুপারমার্কেটগুলোতে সস্তা প্লাগ-ইন সোলার প্যানেল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনাও এসেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাজ্য এখন শুধু গরম বা শীতের সমাধান খুঁজছে না, বরং ভবিষ্যতের আবহাওয়ার বাস্তবতা মাথায় রেখে ঘরবাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

একদিকে বাড়ছে গরম, অন্যদিকে বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই পরিবর্তন কতটা সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছাতে পারবে?

সরকার অনুদান দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ইনস্টলেশন খরচ, নিয়ম-কানুন এবং বাস্তব প্রয়োগ—সব মিলিয়ে এটি কতটা সহজ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।