নিয়োগ বিতর্কে সংসদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার স্টারমার প্রায় কেঁদেই ফেলছিলেন

নিয়োগ বিতর্কে সংসদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার স্টারমার প্রায় কেঁদেই ফেলছিলেন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২১ এপ্রিল:

লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল এক দৃশ্যের জন্ম দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার স্টারমার। পার্লামেন্টে প্রশ্নবাণের মুখে পড়ার সময় তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে, চোখ লাল হয়ে যায়—এমনকি এক পর্যায়ে তিনি কান্নার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন শরীরী ভাষা বিশ্লেষক জুডি জেমস

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পিটার ম্যান্ডেলসন, যাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

সংসদে প্রায় দুই ঘণ্টার কঠিন জবাবদিহির সময় স্যার স্টারমারের আচরণ ছিল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে তাঁর কণ্ঠে সামান্য ক্ষোভের ছাপ থাকলেও, প্রশ্নের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আত্মসংযম দ্রুত ভেঙে পড়ে। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কপালে ভাঁজ পড়া, কথার মাঝে বারবার থেমে যাওয়া—এসবই তীব্র চাপের লক্ষণ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্যার স্টারমার নিজেই জানিয়েছেন, যদি তিনি আগে জানতেন যে পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে কখনোই তাকে এই পদে নিয়োগ দিতেন না। তিনি আরও দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

এদিকে, সাবেক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা স্যার অলি রবিন্স-এর ওপর দায় চাপিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরই স্যার অলি রবিন্সকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

শরীরী ভাষা বিশ্লেষক জুডি জেমস বলেন, স্যার স্টারমারের বক্তব্যে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল তাঁর কথার ফাঁকে “উম”, “এর” ধরনের শব্দের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। পাশাপাশি, চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া এবং অনিয়মিতভাবে চোখের পলক ফেলা—এসবই মানসিক চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

এই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে যাচ্ছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে একটি জরুরি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সরকারকে আরও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনক ইতোমধ্যে এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে স্যার স্টারমার সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষায়, পুরো তথ্য প্রকাশ না হওয়াটা ছিল অমার্জনীয়, এবং এটি কোনো ভুল নয়—বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁর কাছ থেকে তথ্য গোপন করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি নিয়োগ বিতর্ক নয়; এটি সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর শরীরী ভাষায় যখন দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত চাপ নয়—বরং একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।