ইউ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য না বাড়ালে ইউকে-এর অর্থনীতি ধসে যেতে পারে”– ব্রিটিশ চেম্বারস অফ কমার্স
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ ডিসেম্বর : ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পণ্য বিক্রি করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ চেম্বারস অফ কমার্স (BCC) সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক না বাড়ালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ধসে যেতে পারে।
বিসিসি-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১,০০০টি কোম্পানির মধ্যে অর্ধেকের বেশি (৫৪%) মনে করছেন, ২০২১ সালে বরিস জনসনের সরকারের মাধ্যমে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি তাদের সহায়তা করতে পারছে না। জরিপে ছোট ও মাঝারি ব্যবসারা প্রধান।

বিসিসি বলেছে, ব্রেক্সিটের পর অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট। আগের বছরের অনুরূপ জরিপের তুলনায় অসন্তুষ্ট ফার্মের সংখ্যা ১৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া, জরিপে অংশ নেওয়া ৯৪৬টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চারটি মনে করছে যে, সরকার তাদের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়তা করছে।
বিসিসি-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালক স্টিভ লিঞ্চ বলেছেন,
“যেখানে বাজেট অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বা বাণিজ্য সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এখন আর রাজনৈতিক বিকল্প নয়। এটি কৌশলগত জরুরি। ব্যবসায়ীরা আমাদের বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিক্রি করা এখন আরও কঠিন হয়ে গেছে।”
লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই ইউ-র সঙ্গে আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্কের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। কিছু নেতা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য ইউ-র কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দিতে পারে। তবে কির স্টার্মার আগেই বলেছেন, তার জীবদ্দশায় UK-এর ইউ-তে পুনরায় যোগদানের কোনো সম্ভাবনা নেই।
বিসিসি বলেছে, ২০২৬ সালে ব্রাসেলসের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের পাঁচটি মূল প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
পশু ও উদ্ভিদ পণ্যের সীমান্ত পরীক্ষা কমানো,
-
ইউকে এবং ইউ-এর নির্গমন বাণিজ্য ব্যবস্থার সংযোগ চূড়ান্ত করা,
-
যুব মবিলিটি স্কিম চালু করা,
-
ইউ-এর প্রতিরক্ষা তহবিল SAFE-এ ইউকের সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,
-
এবং ভ্যাট ও কাস্টমস সরলীকরণে সহযোগিতা বাড়ানো।
সরকারের মুখপাত্র বলেছেন,
“আমরা চাকরি, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য লালফিতার ও বাণিজ্য বাধা দূর করছি। এই কারণেই ইউ-র সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ, এবং আলোচনায় দৃঢ় অগ্রগতি হয়েছে।”
বিসিসি-এর মতে, ইউ-র সঙ্গে সঠিক বাণিজ্য সম্পর্ক না থাকলে রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাবে এবং ইউকের অর্থনীতিতে আরও চাপ পড়বে। এর ফলে হয়তো আগামীতে ইউর সাথে ব্রিটেনের আবার একিভূত হবার একটা সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।