যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের ঘোষণা

৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

লন্ডন, ২৩ মার্চ ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যদি তারা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” করতে পারে। এই ঘোষণার মধ্যেই তিনি পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও ঘোষণা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধ শেষ করার জন্য ‘খুব ভালো ও গঠনমূলক’ আলোচনা করছি। পাঁচ দিনের এই সময়সীমার শেষে এটি সবার জন্য একটি ভালো চুক্তি হতে পারে। ঠিক যেমন যদি আমরা পুরোপুরি ধ্বংস করতাম, যা করতে না হলে এটি ভালো।” তিনি আরও বলেছেন, এই পাঁচ দিনের মধ্যে চুক্তি হলে তেলের সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে ইরান সংসদের স্পিকার মো: বাগের গালিকেফএই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, এবং ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে বের হতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আটকে আছে।”

এই পরিস্থিতিতে ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচক সোমবার ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের দামও কমেছে, কারণ মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস মিলেছে।

হোয়াইট হাউস reportedly বিবেচনা করছে যে, ইরানের সংসদ স্পিকার গালিবাফকে ভবিষ্যতে মার্কিন সমর্থিত নেতা হিসেবে দেখানো হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, গালিবাফ “উপযুক্ত বিকল্প”, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গালিবাফ নিয়মিত ট্রাম্প প্রশাসনকে সমালোচনা এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি, পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম এবং ইরানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষত, তেল বাজারে দামের ওঠাপড়া এবং ওয়াল স্ট্রিট সূচকের ওঠানামা তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আজ সোমবার রাত নাগাদ ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধ্বংস করার প্রস্তুতি ছিল। কেন্দ্রটি তৈরি করতে ইরানের ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তারা চায়নি সেটি ধ্বংস হোক, তাই আমাদের ফোন করেছে, আমি করিনি। তারা এখন একটি চুক্তিতে আসতে চায়।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারি কার্যকর হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। অপরদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত আছে।

 সবশেষ মূল গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছে :

  • ট্রাম্প ইরানকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন চুক্তির জন্য।
  • পাঁচ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরান “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হবার হুঁশিয়ারি।
  • যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত।
  • ইরান স্পিকার গালিবাফ আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
  • ওয়াল স্ট্রিট সূচক বৃদ্ধি পায়, তেলের দাম কমে।
  • হোয়াইট হাউস ইরানের সংসদ স্পিকারকে সম্ভাব্য মার্কিন সমর্থিত নেতা হিসেবে বিবেচনা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি, তেলের বাজার এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরকাড়া মাত্রায় প্রভাবিত করছে। আগামী পাঁচ দিন বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক নজরদারি এবং অর্থনৈতিক বাজারের জন্য নির্ধারণী হতে পারে।

এদিকে,ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্য অবগত ছিল। তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য উত্তেজনা হ্রাস এবং ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সংঘাতের অবসান দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যে, আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া আলোচনার খবরকে স্বাগত জানাই।”

স্টারমার বলেন, ‘একটি আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তিতে’ ইরানের ওপর ‘কঠোর শর্ত আরোপ করা উচিত, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে।’ তিনি বলেন, ‘চুক্তি হতে হলে কোনো যুদ্ধ থাকা চলবে না এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এই শর্তেই তারা রাজি হচ্ছে। এর বাইরে কোনো চুক্তি হবে না।’