বিশ্ব বই দিবস ২০২৬: দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরিতে জ্ঞানের সৌন্দর্যের উদ্যাপন
তথ্য কণিকা ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে ২৩ এপ্রিল পালিত হলো ‘বিশ্ব বই দিবস’। বইপড়া, প্রকাশনা ও কপিরাইট সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল দিবসটি পালন করে UNESCO। ১৯৯৫ সালে প্যারিসে সংস্থাটির সাধারণ সম্মেলনে এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই দিনটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে সাহিত্যজগতের তিন মহীরুহ—William Shakespeare, Miguel de Cervantes এবং Inca Garcilaso de la Vega—যাদের প্রয়াণদিন ২৩ এপ্রিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বই শুধু জ্ঞানের ভাণ্ডার নয়; এটি মানুষের কল্পনা, চিন্তা ও আত্মিক আশ্রয়ের অন্যতম মাধ্যম। তবে ডিজিটাল যুগে বই পড়ার অভ্যাস কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও বিশ্ব বই দিবস নতুন করে মানুষকে বইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন ১০ লাইব্রেরি
বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও ঐতিহাসিক ১০টি লাইব্রেরির ভেতরের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা স্থাপত্য, ইতিহাস ও সাহিত্যকে একসঙ্গে ধারণ করে।
- Trinity College Library, আয়ারল্যান্ড: দীর্ঘ ‘লং রুম’, কাঠের বুকশেলফ ও দুই লাখের বেশি প্রাচীন বইয়ের জন্য বিখ্যাত। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে ঐতিহাসিক ‘বুক অব কেলস’।
- Admont Abbey Library, অস্ট্রিয়া: বারোক স্থাপত্যে নির্মিত এই মঠ-লাইব্রেরির সাদা-সোনালি নকশা ও প্রাকৃতিক আলো এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে।
- Bibliotheca Alexandrina, মিসর: প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরির আধুনিক রূপ, যেখানে ইতিহাস ও আধুনিকতার অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়।
- Strahov Monastery Library, চেক প্রজাতন্ত্র: মনোমুগ্ধকর ছাদচিত্র ও শতাব্দীপ্রাচীন পাণ্ডুলিপির জন্য প্রসিদ্ধ।
- George Peabody Library, যুক্তরাষ্ট্র: ‘ক্যাথেড্রাল অব বুকস’ নামে পরিচিত, যেখানে লোহার পাঁচতলা বারান্দা ও স্কাইলাইট দর্শকদের মুগ্ধ করে।
- Stuttgart City Library, জার্মানি: সাদা, কিউবিক ও মিনিমালিস্ট ডিজাইনের জন্য আধুনিক লাইব্রেরির অনন্য উদাহরণ।
- Royal Portuguese Cabinet of Reading, ব্রাজিল: কাঠের সূক্ষ্ম খোদাই ও রঙিন কাচের ছাদে তৈরি এক রাজকীয় পাঠপরিবেশ।
- Tianjin Binhai Library, চীন: ঢেউয়ের মতো বুকশেলফ ও গোলাকার অডিটোরিয়ামের জন্য ভবিষ্যতমুখী স্থাপত্যের নিদর্শন।
- Library of Congress, যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বের বৃহত্তম লাইব্রেরিগুলোর একটি, যেখানে শিল্পকলা ও জ্ঞানের সমন্বয় রয়েছে।
- Biblioteca Joanina, পর্তুগাল: ১৮ শতকের এই লাইব্রেরির সোনালি কাঠের কাজ ও প্রাচীন বই একে রাজকীয় রূপ দিয়েছে; বই রক্ষায় এখানে বাদুড় রাখা হয়—যা একে আরও ব্যতিক্রমী করেছে।
বিশ্বজুড়ে এই লাইব্রেরিগুলো শুধু বই সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক। বিশ্ব বই দিবসে এসব স্থাপনা মনে করিয়ে দেয়—ডিজিটাল যুগেও বইয়ের আবেদন অমলিন, আর লাইব্রেরি এখনো জ্ঞানের সবচেয়ে নান্দনিক আশ্রয়।