জার্মানীতে প্রস্তরযুগের ৪০ হাজার বছর আগের আবিস্কার নিয়ে রহস্যময় তথ্য
তথ্য কণিকা ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারি: জার্মানির একটি গুহা থেকে ১৯৭৯ সালে আবিষ্কৃত প্রায় ৪০ হাজার বছর আগের ছোট একটি বস্তু—“অ্যাডোরান্ট ফিগারিন”—নিয়ে নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ম্যামথের দাঁত দিয়ে তৈরি এই মূর্তিটি মানুষ-সিংহ সংকর আকৃতির এবং এতে খোদাই করা রয়েছে নানা দাগ, বিন্দু ও চিহ্নের ধারাবাহিক ব্যবহার। একই সংস্কৃতির তৈরি আরও অনেক নিদর্শনেও এ ধরনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলছেন, এসব চিহ্ন পুরোপুরি লিখিত ভাষা নয়। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলোর ধারাবাহিক ব্যবহার অনেক পরে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩৩০০ সালে) উদ্ভূত যে লিপির সূচনা হয়েছিল—যা পরবর্তীতে কিউনিফর্মে রূপ নেয়—তার সঙ্গে কিছু বৈশিষ্ট্যগত মিল রয়েছে।
গবেষণায় “সাইন টাইপ” নামে উল্লেখ করা এসব চিহ্নের মধ্যে আছে খাঁজ, বিন্দু, রেখা, ক্রস, তারকা আকৃতি ইত্যাদি। গবেষকরা কম্পিউটার বিশ্লেষণের মাধ্যমে “তথ্য ঘনত্ব” বা ইনফরমেশন ডেনসিটি পরীক্ষা করেন—অর্থাৎ প্রতিটি চিহ্ন কতটুকু তথ্য বহন করছে। ফলাফলে দেখা যায়, এগুলো নিছক অলংকার নয়; বরং নির্দিষ্ট নিয়ম ও বাছাই করে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক, জার্মানির সারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান বেন্ৎজ বলেন, এসব চিহ্ন কেবল নান্দনিক সাজসজ্জা নয়; বরং প্রাচীন মানুষের উচ্চমানের জ্ঞানীয় সক্ষমতার প্রমাণ। নিদর্শনগুলো সেই সময়কার, যখন আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে আসার পর মানবজাতি ইউরোপে বিস্তার লাভ করছিল এবং শিকারি-সংগ্রাহক দল হিসেবে বিচরণ করছিল, পাশাপাশি নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাৎ হচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ক্রস চিহ্ন কেবল যন্ত্রপাতি ও প্রাণীর মূর্তিতে পাওয়া গেছে, কিন্তু মানবমূর্তিতে পাওয়া যায়নি। গবেষকরা দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির চারটি গুহাস্থল থেকে উদ্ধার করা ২০০-রও বেশি প্রস্তরযুগের নিদর্শন বিশ্লেষণ করেছেন, যেগুলোতে এ ধরনের চিহ্ন ছিল। এসব নিদর্শনের সময়কাল আনুমানিক ৪৩ হাজার থেকে ৩৪ হাজার বছর আগের এবং এগুলো ‘অরিগনেসিয়ান’ নামে পরিচিত একটি সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।