জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে চাহিদা; কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে পানির সরবরাহে বিঘ্ন

ব্রিটেনে আরেকটি তাপপ্রবাহেই দেখা দিতে পারে পানির সংকট

ব্রিটেনে  আরেকটি তাপপ্রবাহেই দেখা দিতে পারে পানির সংকট

লন্ডন, ২৪ জুলাই ২০২৬:

আরেক দফা তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানলে ব্রিটেনের কয়েক হাজার পরিবার পানির সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়া, জলাধারের পানি কমে যাওয়া এবং পুরোনো পাইপলাইন ব্যবস্থার কারণে দেশটির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের মাত্র তিন শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায় প্রায় কোনো বৃষ্টিই হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে স্থানীয় পর্যায়ে পানির সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আটটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাগানে পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া (হোসপাইপ) নিষিদ্ধ করেছে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হানা ক্লোক বলেন, “কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বোতলজাত পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত পানীয় পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।”

তাপপ্রবাহে ভেঙে পড়ছে পুরোনো ব্যবস্থা

চলতি গ্রীষ্মে ব্রিটেনে ইতোমধ্যে তিনটি তাপপ্রবাহ হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে।

তীব্র গরমে মানুষের পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। কেন্ট ও সাসেক্সের হাজার হাজার বাসিন্দা সাম্প্রতিক সময়ে পানির সমস্যায় পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের খরা মাটিকে সংকুচিত করে, ফলে পুরোনো পাইপলাইনে চাপ পড়ে এবং লিকেজের ঘটনা বাড়ে। একই সঙ্গে বাড়তি চাহিদা সামলাতে গিয়ে দুর্বল অবকাঠামো অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

জলাধারে কমছে পানি

জাতীয় খরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চল এখন খরার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।

দেশটির জলাধারগুলোতে বর্তমানে গড়ে ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পানি রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কয়েকটি জলাধারের পানির স্তরকে ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

লন্ডনের কাছাকাছি কিছু জলাভূমি ও নদীতেও পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে।

পানির রেশনিং কি আবার ফিরবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই পুরো দেশে পানির রেশনিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে একটানা আরও একটি বছর অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

১৯৭৬ সালের ভয়াবহ খরার পর ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো রাস্তায় স্থাপিত পানির স্ট্যান্ডপাইপ থেকে পানি নিতে হয়েছিল অনেক মানুষকে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

ব্রিটেনের পানি কোম্পানিগুলো নতুন জলাধার নির্মাণ ও পাইপলাইন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও অনেক প্রকল্প অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনাগত জটিলতায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বৃষ্টি নয়—বদলে যাওয়া জলবায়ুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানির ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করাই এখন ব্রিটেনের বড় চ্যালেঞ্জ।