লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে অতিরিক্ত ড্রাগ সেবনে সৌদি যুবরাজ আবদুল্লাহর মৃত্যু
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৪ জুলাই:
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি রাজপরিবারের ২৯ বছর বয়সী এক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগ এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো আলামত না পাওয়ায় মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনের একটি পাঁচতারকা হোটেলের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েকদিন ধরে সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্মীরা কক্ষ খুলে তাকে বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইনার ওয়েস্ট লন্ডনের করোনারের তদন্তে জানা যায়, যুবরাজের শরীরে অস্বাভাবিক মাত্রায় অ্যালকোহল ছাড়াও ‘জিএইচবি’ নামে পরিচিত পার্টি ড্রাগ, গাঁজার উপাদান এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ অ্যালপ্রাজোলামের উপস্থিতি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান একসঙ্গে গ্রহণের ফলে শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় তিনি একাই হোটেলের বাইরে যান এবং পরে নিজ কক্ষে ফিরে আসেন। এরপর আর কাউকে তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। কক্ষ থেকেও কোনো সুইসাইড নোট বা সংঘর্ষের আলামত পাওয়া যায়নি।
সহকারী করোনার তার রায়ে বলেন, যুবরাজের মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি। একই সঙ্গে আত্মহত্যারও কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, মৃত্যুর আগে যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। লন্ডনের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে তিনি অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তি কাটানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নতির কথা জানালেও নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসায় তিনি অংশ নেননি।
ঘটনার কয়েকদিন পর সৌদি রাজকীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে রিয়াদে পারিবারিক আয়োজনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল, মাদক এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। এ ধরনের মিশ্রণ শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ বা মাদকের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।