শুক্রবারই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, অপেক্ষা শুধু স্পিকারের ফেরার
ঢাকা প্রতিনিধি, ২৪ জুলাই: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ খবর সামনে এলো, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফরে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি শুক্রবার দেশে ফিরছেন। স্পিকার দেশে ফিরলেই তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এর আগে রাজনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছিল। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও জানিয়েছিল, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল থাকা একমাত্র শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ “শিগগিরই” হতে পারে। তবে তিনি বিস্তারিত কোনো কারণ জানাননি।
এদিকে বাংলাদেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওপর আগের মতো আস্থা রাখছেন না।
এদিকে, সরকারি একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগের খবর প্রকাশ পাওয়ায় সরকার অসন্তুষ্ট হয়েছে।
তবে খবরে প্রকাশ, গত মে মাসে লন্ডনে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের খবরই একমাত্র কারণ নয়; বিষয়টি আরও জটিল। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলতি মাসে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও জানিয়েছে, দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফরে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর ২৬ জুলাই ফেরার কথা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হয়। আর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, স্পিকারের দ্রুত দেশে ফেরা এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন গভীর নজর রয়েছে বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদের দিকে।