দেড় যুগ পর স্বদেশ মাটির ঘ্রাণ নিলেন তারেক রহমান

দেড় যুগ পর স্বদেশ মাটির ঘ্রাণ নিলেন তারেক রহমান

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক রিপোর্ট, ২৫ ডিসেম্বর

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, স্মৃতির সঙ্গে বাস্তবের দূরত্ব মুছে দিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেড় যুগ পর বৃহস্পতিবারের সকালে তিনি ফিরলেন সেই বাংলাদেশে—যে দেশকে বহু বছর ধরে ছুঁতে পারেননি, কিন্তু হৃদয়ের ভেতর থেকে কখনো আলাদা করতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে পূর্বনির্ধারিত বাসে ওঠার আগে তিনি বিমানবন্দরসংলগ্ন বাগানে যান। সেখানে শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান। পরে লাল-সবুজ রঙের বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন ও সালাম জানান।

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭–৯০০ উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় এক ঘণ্টা মাটিতে অবস্থানের পর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমানটি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক দীর্ঘ অধ্যায়, শুরু হয় আরেকটি।
ভিভিআইপি যাত্রী বহনের কারণে পুরো ফ্লাইটজুড়েই ছিল বিশেষ নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা। লন্ডন–সিলেট–ঢাকা রুটের এই যাত্রায় উড়োজাহাজের এ–১ নম্বর আসনে বসেই বহু বছরের প্রতীক্ষার ভার নামিয়ে রাখেন তারেক রহমান।


এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে তার সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, বিএনপির প্রেস উইং সদস্য সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ইউরোপীয় সমন্বয়ক মো: কামাল উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন।


ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি রওনা দেন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনার উদ্দেশে। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী—দীর্ঘদিনের না-বলা কথা, না-দেখা নেতাকে এক ঝলক দেখার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।
গণসংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে গুলশান–২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। সময় গড়িয়েছে, রাজনীতি বদলেছে, মামলা ও বাস্তবতার জটিলতায় দীর্ঘদিন দেশে ফেরা হয়নি। অবশেষে প্রায় ১৭ বছর পর তিনি ফিরলেন—স্বদেশের আকাশের নিচে, পরিচিত মানুষের ভিড়ে, দেশের মাটির ঘ্রাণ নিতে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনায় যোগ দেন। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল- পুরো পথে ছিলো লাখো নেতা-কর্মীর স্রোত। তারেক রহমানও পুরো পথে সবাইকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তারপর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ভাষনের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫ টা ৫৪ মিনিটের দিকে তারেক রহমান হাসপাতালে প্রবেশ করেন। হাসপাতালে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের  ফিরে প্রথম স্বাগত ভাষণে যা বললেন তারেক রহমান:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় বাংলাদেশ,

উপস্থিত প্রিয় মুরুব্বিবর্গ, মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আমার সামনে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাজারো লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই- রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৭৫ এ আবার ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তীতে ৯০ এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এদেশের জনগণ, এদেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু, তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। আমরা তারপর দেখেছি ২০২৪ সালে ৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে এদেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ- কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারীপুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত নির্বিশেষে শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ সেদিন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা- যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন, অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যে-ই হোক না কেন- নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য পাঁচ কোটির মতন শিশু, ৪০ লক্ষের মতন প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই। আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- তাহলে আমরা এই লক্ষ কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, ৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এইরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত হাজারো গুম-খুনের শিকার হয়েছে শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল মাত্র সেদিনের ঘটনা। কীভাবে আমরা দেখেছি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪ এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আজ ২৪ এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো- যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখনও লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে। আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন আপনারাই আগামীদিন দেশকে নেতৃত্ব দিবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদেরকে আজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি শক্ত ভিত্তির উপরে। গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমার সাথে আজকে মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি- আল্লাহর রহমত আমরা চাই যে- যেসকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন, মঞ্চের বাইরে যে সকল জাতীয় আরো নেতৃবৃন্দ আছেন, আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে যে কোন মূল্যে আমাদেরকে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যে কোন উস্কানির মুখে আমাদেরকে ধীর শান্ত থাকতে হবে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই। প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং, নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে, 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম'। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, 'আই আই হ্যাভ অ্যা প্লান ফর দ্য পিপল অফ মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।'

আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়- প্রিয় ভাই-বোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান' বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি, আমরা যেন হে রাব্বুল আলামীন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরবারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব।

আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে এই দেশের উপরে থাক্‌ ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করীম (সা) ন্যায়পরণয়তা, সেই ন্যায়পরাণয়তার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। একটি মানুষ যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন, তার সাথে কি হয়েছে আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসাবে আপনাদের কাছে আমি চাইব, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন, যাতে আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছে, অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে যাদের জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এবং সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাবার আগে আপনাদের প্রতি সহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমাদেরকে আজকে নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণীর মানুষ হই, আমরা যে দলেরই রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যেকোন মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোন মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণী, যেকোনো পেশা যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে- এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।

আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারো সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে, ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আবারো আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। আসসালামু আলাইকুম।