লেবার দলে ইইউ কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার আলোচনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে

লেবার দলে ইইউ কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার আলোচনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে

ভয়েস অব পিপল নিউজ, ২৯ ডিসেম্বর: 

ব্রেক্সিটের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আবার কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্য মন্তব্যে বিষয়টি এখন আর গোপন নয়।

সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও লেবার দলের প্রভাবশালী নেতা ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ব্রিটেনের জন্য ইইউর সঙ্গে “আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক” জরুরি। তাঁর এই বক্তব্য সরকারি অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও লেবার পার্টির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিং কার্যত কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

একই সঙ্গে জনমতও এই দাবির পক্ষে যাচ্ছে। ইউগভের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবারকে ভোট দেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ ইইউর সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়ন নিয়ে আলোচনা সমর্থন করেন। এমনকি ৭৩ শতাংশ ভোটার পুরোপুরি ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট, লেবারের মূল সমর্থকরাই ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চান।

লেবার দলের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক এমপি ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মনে করছেন, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তা খুবই দুর্বল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন। তাঁদের মতে, কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।

অন্যদিকে, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোকে ব্যবসায়ী মহলের একাংশ “প্রদর্শনমূলক” বলেও মন্তব্য করেছেন। এসব চুক্তি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি—এমন ধারণাই জোরালো হচ্ছে।

এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য চাপ বাড়ছে। তিনি এখনো কাস্টমস ইউনিয়ন, সিঙ্গেল মার্কেট বা ইউরোপে অবাধ চলাচলে ফেরার প্রশ্নে ‘না’ বলেই আসছেন। তবে লেবারের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক চাপ এবং বাস্তব অর্থনৈতিক চিত্রের কারণে এই অবস্থান ধরে রাখা ভবিষ্যতে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লেবার নেতাদের একাংশের মতে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকার বলতে পারবে—বর্তমান সীমার মধ্যে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু এরপর ব্রিটেনের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো না কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা কাস্টমস ইউনিয়নে যাওয়াই হতে পারে পরবর্তী বাস্তবসম্মত পথ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লেবার সরকারের সামনে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার প্রশ্নটি এখন আর শুধু আলোচনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ ব্রিটিশ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে—যা আসন্ন নির্বাচনের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।