ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
সৎ মাকে হত্যার পর আপন মাকে হত্য করলো নেশাসক্ত সন্তান
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩১ জুলাই:
ফরিদপুর শহরে এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। নিহত সামেলা (সাহেলা) আক্তার (৬০)কে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে আব্দুর রাহিম শেখ (৩৫) পলাতক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে (৩০ জুলাই) শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে রাহিম শেখ মায়ের ওপর হামলা চালান। মাথায় একাধিক আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানান, তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন, টাকা না পেলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ভাইকে বাড়ির আলাদা কক্ষে রেখে যান। দুপুরে জানতে পারেন, তাঁদের মা নিহত হয়েছেন এবং ভাই পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি রাহিমের বিরুদ্ধে প্রথম হত্যার অভিযোগ নয়। ২০১৬ সালেও তিনি তাঁর সৎমাকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কারামুক্তির পরও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি নিয়মিত নেশা করতেন, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাতেন এবং টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাহিম শেখ মায়ের মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন। তাঁর কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।