তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল।
ভাড়া দেব, নাকি খাবার কিনব—ব্রিটেনে আবাসন খরচের চাপে কঠিন সিদ্ধান্তে পরিবার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ সেপ্টেম্বর :
ব্রিটেনে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে এখন খাবার, ঘরের উষ্ণতা এবং বাড়িভাড়া—এই তিনটির মধ্যে কোনটি আগে সামলাবেন, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বেডরুমের একটি বাড়ির ভাড়া এবং সরকারের হাউজিং বেনিফিটের মধ্যে গড়ে মাসে ১৫৮ পাউন্ড পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়েছে। লন্ডনে এই ব্যবধান বেড়ে ৩২৪ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। ফলে কিছু পরিবারকে খাবারের জন্য ফুড ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব পরিবার সরকারি সহায়তা বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বাড়িভাড়া পরিশোধের পর হাতে থাকা অর্থ দিয়ে খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্রিটেনে ব্যক্তিগত বাড়িভাড়ার চাপের বিষয়টি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে গড় ব্যক্তিগত ভাড়া বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আর লন্ডনে গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৩৩২ পাউন্ড।
লন্ডনের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের মতো এলাকায় যেখানে বড় পরিবারের অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকেন, সেখানে ভাড়ার সঙ্গে খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের সমন্বয় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাড়ি নির্মাণ বাড়ালেই হবে না; নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে ভাড়া রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটেনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটের একটি বড় দিক তাই এখন শুধু ‘বাড়ি আছে কি না’ নয়—বাড়ির ভাড়া দেওয়ার পর একটি পরিবারের হাতে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থ থাকে কি না।