ব্রিটেন সংবাদ
বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোরতা
শিক্ষা ডেস্ক, ভয়েস অব পিপল, ১৯ সেপ্টেম্বর :
ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার জন্য আসতে চাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ভিসা যাচাই, সিএএস দেওয়ার সময়সীমা, সাক্ষাৎকার ও অগ্রিম ফি জমার শর্ত কঠোর করেছে। তবে পুরো যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়।
এর পেছনে বড় কারণ হলো ব্রিটিশ সরকারের নতুন শিক্ষার্থী ভিসা-সংক্রান্ত নিয়ম। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার বার্ষিক মূল্যায়নে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার হার কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ এবং চলতি পর্যায়ে কোর্স শেষ করার হার অন্তত ৮৫ শতাংশ রাখতে হবে। নির্ধারিত মান পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অক্সফোর্ড ব্রুকসে বাংলাদেশিদের জন্য নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ
অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের সব আবেদনকারী, বাংলাদেশের সব ফাউন্ডেশন ও প্রি-মাস্টার্স কোর্স এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ব্যবসায়িক কোর্সে শিক্ষার্থী ভিসার পৃষ্ঠপোষকতায় বিরতি দেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সব কোর্সে ভর্তি বন্ধ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সাক্ষাৎকারের শর্ত রয়েছে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভর্তিতে ৩১ জুলাইয়ের পর নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। ১৪ আগস্টের পর সিএএসও দেওয়া হয়নি।
একই বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের ফাউন্ডেশন ও প্রি-মাস্টার্স পর্যায়ে ভিসা পৃষ্ঠপোষকতায় বিরতি দিয়েছে। ইরান, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও আলাদা বিরতি রয়েছে। নাইজেরিয়ার কিছু আবেদনকারীর জন্যও বাড়তি শর্ত রয়েছে।
এগুলো ব্রিটিশ সরকারের জাতীয় নিষেধাজ্ঞা নয়; এগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতি।
ব্র্যাডফোর্ডে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের বাড়তি টাকা জমা দিতে হচ্ছে

ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নিয়মেও বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আর্থিক শর্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিএএস পাওয়ার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের ১০ হাজার পাউন্ড টিউশন ফি অগ্রিম জমা দিতে হয়। অন্য অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই জমার পরিমাণ ৫ হাজার পাউন্ড।
এর অর্থ এই নয় যে ব্র্যাডফোর্ড বাংলাদেশিদের ভর্তি বন্ধ করেছে। বরং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক ও ভিসা-সংক্রান্ত যাচাইয়ের শর্ত কঠোর করা হয়েছে।
আরও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি শর্ত
কোভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নিয়মে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের শিক্ষার্থীদের সিএএস পাওয়ার আগে প্রথম বছরের পুরো টিউশন ফি জমা দিতে হয়। অন্য অনেক দেশের শিক্ষার্থীর জন্য জমার পরিমাণ ৮ হাজার পাউন্ড।
হাল বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের সিএএস দেওয়ার আগে ১০ হাজার পাউন্ড জমা নেওয়ার নিয়ম করেছে।
আবার পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি বন্ধ করেনি। তাদের বর্তমান ওয়েবসাইটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং প্রস্তাব পাওয়ার পর অনলাইন বিশ্বাসযোগ্যতা সাক্ষাৎকার ও অতিরিক্ত যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি ভর্তির জন্য বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের আবেদনকারীদের আলাদা সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আলাদা
এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ব্রিটিশ সরকার আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় আলাদা ‘ভিসা ব্রেক’ চালু করেছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই সরকারি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই।
ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘ব্রিটেনে পড়াশোনা নিষিদ্ধ’ বলা ঠিক হবে না। বরং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমাতে নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল বা কোর্সের আবেদনকারীদের ওপর বাড়তি যাচাই ও আর্থিক শর্ত আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ থেকে যারা ব্রিটেনে পড়তে আসতে চান, তাদের তাই কোনো শিক্ষা পরামর্শকের কথার ওপর শুধু নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ভর্তি, সিএএস, অগ্রিম ফি ও ভিসা-সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে টাকা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।