ব্রিটেন সংবাদ

ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের জন্য বিনা মূল্যে কোর্সের বড় সুযোগ

ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের জন্য বিনা মূল্যে কোর্সের বড় সুযোগ

তথ্য কণিকা ডেস্ক, ভয়েস অব পিপল:

বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই চাকরি, ব্যবসা কিংবা সংসারের ব্যস্ততার কারণে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান না। অথচ সরকারি অর্থায়নে এমন বেশ কিছু কোর্স রয়েছে, যেগুলো যোগ্যতা পূরণ করলে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা যায়। ইংরেজি ভাষা শেখা থেকে শুরু করে গণিত, কম্পিউটার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, হিসাববিজ্ঞান, নির্মাণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এমনকি নতুন পেশায় যাওয়ার প্রশিক্ষণও রয়েছে এসব কর্মসূচিতে।

তবে বিনামূল্যে কোর্সের নিয়ম পুরো বৃটেনে এক নয়। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে আলাদা অর্থায়ন ও যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কলেজের কাছে যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

ইংরেজি শেখার সুযোগ

বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলোর একটি হলো ইএসওএল—ইংলিশ ফর স্পিকার্স অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস। ইংরেজি মাতৃভাষা নয় এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন স্তরে ইএসওএল কোর্স রয়েছে।

ইংল্যান্ডে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য ইএসওএল থেকে লেভেল ২ পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আয়, বেকারত্ব এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা আংশিক অর্থায়িত হতে পারে।

লন্ডনে মেয়রের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচিতে ইএসওএল, ইংরেজি পড়া-লেখা, গণিত, ডিজিটাল দক্ষতা ও ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজসহ হাজার হাজার কোর্স রয়েছে। অনেক লন্ডনবাসী এসব কোর্স বিনামূল্যে করতে পারেন।

জিসিএসই সমমানের ইংরেজি ও গণিত

যাদের ইংরেজি বা গণিতে জিসিএসই গ্রেড ৪ বা তার সমমানের যোগ্যতা নেই, তাদের জন্য ইংল্যান্ডে লেভেল ২ পর্যন্ত ইংরেজি ও গণিত শেখার সরকারি অর্থায়ন রয়েছে। ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এসব কোর্স বিনামূল্যে করতে পারেন।

চাকরির আবেদন, সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ কিংবা কর্মক্ষেত্রে উন্নতির জন্য এই কোর্সগুলো বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে।

কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং, চাকরির আবেদন, অনলাইন সরকারি সেবা থেকে শুরু করে ব্যবসা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রয়োজন।

ইংল্যান্ডে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী কম ডিজিটাল দক্ষতার ব্যক্তিদের জন্য এসেনশিয়াল ডিজিটাল স্কিলস লেভেল ১ পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে শেখার সুযোগ রয়েছে। লন্ডনের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল দক্ষতার কোর্স বিনামূল্যে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য।

লেভেল ৩-এর বিনামূল্যের কোর্স

যাদের বয়স ১৯ বা তার বেশি এবং নির্দিষ্ট লেভেল ৩ যোগ্যতা নেই, তাদের জন্য ইংল্যান্ডে ফ্রি কোর্সেস ফর জবস কর্মসূচির আওতায় অনেক কোর্স করা সম্ভব।

সরকারের তালিকায় হিসাববিজ্ঞান ও অর্থনীতি, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, শিশু ও প্রারম্ভিক শিক্ষা, ডিজিটাল, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, আতিথেয়তা, উৎপাদন, বিজ্ঞান, শিক্ষকতা, পরিবহন এবং গুদাম ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে।

সাধারণভাবে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং নির্দিষ্ট আয়সীমার নিচে থাকা বা বেকার ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ১৯ থেকে ২৩ বছর বয়সীদের জন্য কিছু লেভেল ৩ যোগ্যতায় আরও বিস্তৃত সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন পেশায় যাওয়ার জন্য ‘স্কিলস বুটক্যাম্প’

চাকরি পরিবর্তন বা নতুন দক্ষতা অর্জন করতে চান এমন বাংলাদেশিদের জন্য স্কিলস বুটক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

ইংল্যান্ডে এসব কোর্স সাধারণত সর্বোচ্চ ১৬ সপ্তাহের হয় এবং নির্মাণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সামাজিক সেবা, আতিথেয়তা, পরিবহনসহ বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন খাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের কোর্স শেষ হওয়ার পর চাকরির সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

লন্ডনে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী চাকরিজীবী, খণ্ডকালীন কর্মী, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি, বেকার এবং বিরতির পর কাজে ফিরতে চাওয়া ব্যক্তিরাও স্কিলস বুটক্যাম্পের আওতায় আসতে পারেন।

২০২৬-২৭ থেকে লন্ডনে এসব প্রশিক্ষণের জন্য বছরে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৫৭ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।

লন্ডনে কোথায় কোর্স খুঁজবেন ?

লন্ডনের বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মেয়র কার্যালয়ের অ্যাডাল্ট লার্নিং কোর্স সার্চ ব্যবহার করা। পোস্টকোড দিয়ে নিজের এলাকার কোর্স খোঁজা যায় এবং ‘ইএসওএল’, ‘ডিজিটাল’, ‘সোশ্যাল কেয়ার’ ইত্যাদি শব্দ দিয়ে বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান করা যায়। সার্চ ব্যবস্থায় টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ, হ্যাকনি, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামসহ বিভিন্ন এলাকার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলের বিভিন্ন অ্যাডাল্ট লার্নিং কর্মসূচিও রয়েছে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে এসব কোর্স ও সংশ্লিষ্ট ক্রেশ সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্মসূচির ক্ষেত্রে সাধারণত টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা হওয়া, যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট সময় বসবাস এবং আয় বা বেকারত্বের মতো শর্ত বিবেচনা করা হয়।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও সুযোগ রয়েছে

ইংল্যান্ডের বাইরে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়ম আলাদা।

ওয়েলসে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মরত বা স্বনিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ‘পার্সোনাল লার্নিং অ্যাকাউন্ট’ রয়েছে। যোগ্য হলে ডিজিটাল, সবুজ প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পের বিভিন্ন কোর্স সম্পূর্ণ অর্থায়নে করা যায়।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এসেনশিয়াল স্কিলস কোর্স বিনামূল্যে। এর মধ্যে পড়া, লেখা, গণিত এবং তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রথম লেভেল ২ বা নির্দিষ্ট লেভেল ৩ যোগ্যতার জন্যও বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

স্কটল্যান্ডে কোর্স ও প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং অর্থায়নের তথ্য সরকারি ‘মাইগভ’ ও ‘মাই ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যায়।

নাগরিকত্বের প্রস্তুতিতেও কাজে লাগতে পারে

ইংরেজি শেখার পাশাপাশি কিছু স্থানীয় ইএসওএল কর্মসূচিতে ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষার প্রস্তুতিও দেওয়া হয়। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনো সাধারণ ইএসওএল কোর্স করলেই সেটি নাগরিকত্ব বা সেটেলমেন্টের ইংরেজি ভাষার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে এমন নয়।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার প্রমাণের জন্য সরকার অনুমোদিত সিকিউর ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট বা এসইএলটি-এর নিয়ম প্রযোজ্য।

অন্যদিকে ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষা নাগরিকত্ব বা সেটেলমেন্টের আবেদনের অংশ এবং বর্তমানে পরীক্ষার ফি ৫০ পাউন্ড। তাই বিনামূল্যের প্রস্তুতি কোর্স পাওয়া গেলেও পরীক্ষার সরকারি ফি আলাদা বিষয়।

বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

বৃটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য এসব সুযোগের ক্ষেত্রে জাতীয়তা নয়, মূলত যোগ্যতা ও বসবাসের অবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকের মতো একই সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় সুযোগ পেতে পারেন, যদি তিনি সংশ্লিষ্ট তহবিলের বয়স, বসবাস, আয়, পূর্ববর্তী যোগ্যতা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করেন।

আবার ‘ফ্রি’ লেখা থাকলেও প্রতিটি কোর্স সবার জন্য বিনামূল্যে নয়। কোনো কোনো কোর্সে নির্দিষ্ট আয়সীমা, বেকারত্ব, পূর্ববর্তী যোগ্যতা বা নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের শর্ত থাকতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা প্রশিক্ষণদাতার কাছ থেকে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। ইংল্যান্ডে জাতীয় ক্যারিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কোর্স খোঁজা এবং প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়াও যায়।

কোথা থেকে শুরু করবেন: লন্ডনে বসবাসকারীরা মেয়র কার্যালয়ের অ্যাডাল্ট লার্নিং কোর্স সার্চে পোস্টকোড দিয়ে খুঁজতে পারেন। সেখানে ইএসওএল, ডিজিটাল, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, আতিথেয়তা, সৃজনশীল শিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ের কোর্স পাওয়া যায়।

লন্ডনে বাংলাদেশিদের জন্য ২০টি বিনামূল্যের কোর্সের সুযোগ

ক্রম কোর্স প্রতিষ্ঠান/উৎস কার জন্য বিশেষভাবে উপকারী
ইএসওএল—ইংরেজি ভাষা ডব্লিউইএ ইংরেজিতে দুর্বল প্রাপ্তবয়স্ক
ইএসওএল স্পিকিং অ্যান্ড লিসেনিং ডব্লিউইএ নতুন অভিবাসী ও ইংরেজি শেখার পর্যায়ের শিক্ষার্থী
ইএসওএল রিডিং ডব্লিউইএ পড়ার দক্ষতা বাড়াতে
ইএসওএল রাইটিং ডব্লিউইএ চাকরি, চিঠি ও আবেদনপত্র লেখার জন্য
ইএসওএল—এলাট ELATT ইংরেজির পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি
এসেনশিয়াল ডিজিটাল স্কিলস ELATT কম্পিউটারে নতুনদের জন্য
আইটি ফর দ্য অফিস ELATT অফিসের কাজ ও মাইক্রোসফট অফিস শেখার জন্য
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ELATT আইটি পেশায় যেতে আগ্রহীদের জন্য
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ELATT প্রোগ্রামিং শেখার জন্য
১০ ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ELATT ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পেশার জন্য
১১ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ELATT অফিস ও প্রশাসনিক চাকরির জন্য
১২ হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ELATT কেয়ার ও স্বাস্থ্য খাতে যেতে চান যারা
১৩ হসপিটালিটি অ্যান্ড ক্যাটারিং ELATT রেস্টুরেন্ট/হোটেল খাতে আগ্রহীদের জন্য
১৪ আর্লি ইয়ার্স ELATT শিশু পরিচর্যা ও শিক্ষা খাতে যেতে চান যারা
১৫ ইউথ ওয়ার্ক ELATT তরুণদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য
১৬ ফাংশনাল স্কিলস ইংরেজি ELATT ইংরেজি দক্ষতার স্বীকৃত যোগ্যতার জন্য
১৭ ফাংশনাল স্কিলস গণিত ELATT চাকরি ও পরবর্তী শিক্ষার প্রস্তুতি
১৮ লেভেল ৩ অ্যাকাউন্টিং/ফাইন্যান্স সরকারি অর্থায়ন হিসাবরক্ষণ পেশায় যেতে আগ্রহীদের জন্য
১৯ লেভেল ৩ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সরকারি অর্থায়ন কেয়ার/স্বাস্থ্য পেশার জন্য
২০ স্কিলস বুটক্যাম্প মেয়র অব লন্ডন/সরকার দ্রুত নতুন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য

১. ইএসওএল—বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে সরাসরি সুযোগ

ইংরেজি মাতৃভাষা নয় এমন মানুষের জন্য ইএসওএল কোর্সের বড় পরিসর রয়েছে। ডব্লিউইএ বর্তমানে লন্ডনে বিভিন্ন স্তরের ইএসওএল কোর্স চালাচ্ছে এবং সরকারি অর্থায়নের কারণে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স ফি শূন্য হতে পারে।

এমনকি পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইএসওএল রিডিং কোর্সের আসন পাওয়া যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া একটি কোর্সে ১৭টি সেশন রয়েছে এবং বর্তমানে আসন খালি দেখানো হচ্ছে।

২. কম্পিউটার না জানলেও শুরু করা যাবে

ELATT-এর এসেনশিয়াল ডিজিটাল স্কিলস কোর্সে আগের কোনো কম্পিউটার যোগ্যতা প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীর বর্তমান দক্ষতা যাচাই করে উপযুক্ত স্তর নির্ধারণ করা হয়। কোর্সটি যোগ্য লন্ডনবাসীর জন্য বিনামূল্যে এবং সংশ্লিষ্ট পেশাগত কোর্সের সঙ্গে অতিরিক্ত যোগ্যতাও অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

৩. অফিসের চাকরির জন্য আইটি

আইটি ফর দ্য অফিস কোর্সটি বিশেষ করে নতুনদের জন্য তৈরি। মাইক্রোসফট অফিস, এক্সেলসহ অফিসভিত্তিক ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কোর্সটির বর্তমান একটি লেভেল-২ প্রোগ্রাম ৯–১০ সপ্তাহের।

বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা দোকান, রেস্টুরেন্ট বা অন্য কাজে আছেন কিন্তু ভবিষ্যতে অফিসের চাকরিতে যেতে চান, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কাজে লাগতে পারে।

৪. সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট

ELATT-এর লেভেল-২ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক বিষয়, সাইবার নিরাপত্তা ও সফটওয়্যার পরীক্ষার মতো বিষয় শেখানো হয়। একেবারে শুরু থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রস্তুতিমূলক সহায়তা রয়েছে।

৫. ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট

ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনার দক্ষতা শেখানোর জন্য ELATT-এর ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কোর্স রয়েছে। এটি ডিজিটাল খাতে নতুন ক্যারিয়ার তৈরির একটি সম্ভাব্য পথ।

৬. স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ELATT নতুন করে হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার কোর্স চালু করেছে। এর পাশাপাশি আর্লি ইয়ার্স, ইউথ ওয়ার্ক এবং হসপিটালিটি অ্যান্ড ক্যাটারিংও চালু হয়েছে। এসব কোর্স সরকারি অর্থায়নে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে।

৭. লেভেল ৩ পর্যন্ত সরকারি অর্থায়ন

ইংল্যান্ডে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য যোগ্যতা পূরণ করলে বিভিন্ন লেভেল ৩ কোর্স সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স
  • ব্যবসা ব্যবস্থাপনা
  • শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষা
  • ডিজিটাল
  • প্রকৌশল
  • স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা
  • আতিথেয়তা ও ক্যাটারিং
  • বিজ্ঞান
  • শিক্ষকতা
  • পরিবহন
  • গুদাম ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা
  • নির্মাণ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ যোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ১৯ বছর বা তার বেশি বয়স এবং নির্দিষ্ট আয়সীমার নিচে থাকা অথবা বেকার থাকা। তবে স্থানীয়ভাবে নিয়ম ও আগের যোগ্যতার ভিত্তিতে পার্থক্য হতে পারে।

৮. স্কিলস বুটক্যাম্প—২ থেকে ১৬ সপ্তাহ

যারা দীর্ঘমেয়াদি কলেজ কোর্স না করে দ্রুত একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য Skills Bootcamps for Londoners গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে লন্ডনে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ২ থেকে ১৬ সপ্তাহের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ রয়েছে। কোর্সগুলো নির্মাণ, সবুজ দক্ষতা, ডিজিটাল, সৃজনশীল শিল্প, অর্থ ও পেশাগত সেবা, আতিথেয়তা, লজিস্টিকস, খুচরা ব্যবসা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এবং আর্লি ইয়ার্স—এই ১১টি খাতে দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান তালিকায় স্ট্র্যাটফোর্ডে নির্মাণ প্রশিক্ষণ এবং লেটনে নির্মাণভিত্তিক একটি ৬–৮ সপ্তাহের বুটক্যাম্পও রয়েছে। লেটনের কোর্সটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত এবং এতে সিএসসিএস প্রস্তুতি, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট নির্মাণ দক্ষতা রয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ তথ্য

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নিজস্ব ফ্রি ইএসওএল ও সামাজিক সংযোগ কর্মসূচি রয়েছে। কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ব্রোমলি-বাই-বো সেন্টার, ELATT এবং WEA—এই তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে ৩০ ঘণ্টার বিনামূল্যের ইএসওএল শিক্ষা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কাউন্সিলের আইডিয়া স্টোরগুলোতে বিনামূল্যের ডিজিটাল প্রশিক্ষণও রয়েছে। ক্রিসপ স্ট্রিট, হোয়াইটচ্যাপেল, ওয়াটনি মার্কেট ও বো—বিভিন্ন আইডিয়া স্টোরে ডিজিটাল সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

আইডিয়া স্টোরের ২০২৫–২৬ কোর্স তথ্যেও বলা হয়েছে, ইএসওএল ক্লাস শুরু থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত রয়েছে এবং অধিকাংশ কোর্স বিনামূল্যে অথবা কম খরচে করা যায়। টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস করা বাধ্যতামূলক নয়—কোর্সভেদে নিয়ম আলাদা।

যাদের সন্তান আছে, তাদের জন্যও সুযোগ

টাওয়ার হ্যামলেটসের Parent and Adult Education কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী স্থানীয় পরিবারের জন্য কোর্স বিনামূল্যে। কাউন্সিলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার সুবিধার জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা হওয়া, গত তিন বছর বা তার বেশি সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস এবং নির্দিষ্ট আয়/বেকারত্বের শর্ত রয়েছে।

এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো নির্দিষ্ট কেন্দ্রে শিশুদের জন্য ক্রেশ সুবিধা রয়েছে; তবে আসন সীমিত।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

১. বাংলাদেশি হলেই ফ্রি নয়।
ফ্রি হওয়ার যোগ্যতা সাধারণত বয়স, আয়, বেকারত্ব, আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বসবাস এবং সংশ্লিষ্ট তহবিলের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

২. লন্ডনে থাকলে আগে পোস্টকোড দিয়ে খুঁজুন।
মেয়র অব লন্ডনের অ্যাডাল্ট লার্নিং ব্যবস্থায় পোস্টকোড ও এলাকার ভিত্তিতে কোর্স খোঁজা যায়। ইংরেজি, গণিত, ডিজিটাল, স্বাস্থ্য, আতিথেয়তা ও অন্যান্য বিষয়ে কোর্স রয়েছে।

৩. আবেদন করার সময় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ লাগতে পারে।
সব সরকারি অর্থায়িত কোর্সের যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। তাই ভর্তি হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানকে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

৪. ফ্রি মানেই ডিগ্রি নয়।
কিছু কোর্সে সার্টিফিকেট, কিছুতে লেভেল-২ বা লেভেল-৩ যোগ্যতা এবং কিছুতে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে কোর্সটি শেষে ঠিক কী যোগ্যতা পাওয়া যাবে তা দেখে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে ব্যবহারিক পথ

ইংরেজিতে দুর্বল হলে ইএসওএল → ফাংশনাল ইংরেজি → পেশাগত কোর্স—এই পথে এগোনো যায়। আর যাদের ইংরেজি ভালো কিন্তু কম্পিউটার দক্ষতা কম, তারা এসেনশিয়াল ডিজিটাল স্কিলস → আইটি/অফিস → লেভেল ২/৩ পেশাগত কোর্স বেছে নিতে পারেন। যারা দ্রুত চাকরির জন্য নির্দিষ্ট দক্ষতা চান, তাদের জন্য স্কিলস বুটক্যাম্প আলাদা একটি পথ। লন্ডনের সরকারি অর্থায়ন কাঠামোতে এই ধরনের অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: কোর্সের আসন, শুরুর তারিখ ও যোগ্যতার শর্ত দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা উচিত।