নিজস্ব কমিউনিটি ভাষা শেখায় নতুন দিগন্ত
টাওয়ার হ্যামলেটসে ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিসের যাত্রা শুরু
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ ফেব্রুয়ারি : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস—যা শিশু ও তরুণদের জন্য কমিউনিটি ভাষা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করল। ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে টাউন হলের গ্রোসার’স উইংয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদারসহ কমিউনিটির অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বহুভাষিক দক্ষতা শুধু ভাষা শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, চিন্তাশক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে। উদ্বোধনী বক্তব্যে এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান জানান, শিশুদের মাতৃভাষা ও কমিউনিটি ভাষা শেখার সুযোগ বাড়াতে কাউন্সিল প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি অভিভাবকদের আহ্বান জানান, সন্তানদের ভাষাগত দক্ষতা বিকাশে এই সুযোগ কাজে লাগাতে।
ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার বলেন, ২০২১ সালে বাজেট সংকোচনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ভাষার ক্লাস পুনরায় চালু হওয়ায় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, এসব ভাষা মানুষকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে একটি সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টারিতে ওয়াইসিএল সার্ভিসের লক্ষ্য ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অভিভাবক তাহমিনা খানম জানান, তার সন্তানরা এখন ঘরে ঘরে বাংলা শব্দ বলতে পারছে, যা তার কাছে বড় প্রাপ্তি। এছাড়া শিশুদের আরবি ও বাংলা গান, কবিতা, সোমালি সংগীত এবং চাইনিজ লায়ন ডান্সে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
বর্তমানে ওয়াইসিএল সার্ভিসের আওতায় বারার আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি ভাষায় সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস চলছে, যেখানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। স্কুল সময়ের বাইরে ও সপ্তাহান্তে পরিচালিত এসব ক্লাস ভবিষ্যতে আরও স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষায় জিসিএসই ও এ-লেভেল পর্যায়ের পাঠদান চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের শিশু-কিশোররা যেমন ভাষা শিখছে, তেমনি নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও নতুন করে সংযোগ স্থাপন করছে—যা কমিউনিটির জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা।