জার্মান পুরুষদের দেশ ছাড়তে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে

জার্মান পুরুষদের দেশ ছাড়তে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে

জার্মান প্রতিনিধি, ৪ এপ্রিল:

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে যেতে হলে অনুমতি নিতে হবে। সামরিক সেবাবিষয়ক নতুন বিধানের অধীনে যুদ্ধোপযোগী বয়সের জার্মান পুরুষদের তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছাড়তে হলে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

সরকার এ বছর একটি নতুন সামরিক সেবা পদ্ধতি চালু করেছে, যা বাধ্যতামূলক নিয়োগ (conscription) পর্যন্ত না গেলেও ২০০৮ সাল বা তার পর জন্ম নেওয়া পুরুষদের মেডিকেল পরীক্ষা দিতে এবং সামরিক সেবার উপযোগিতা সম্পর্কে একটি জরিপ পূরণ করতে বাধ্য করে।

এছাড়াও জানা গেছে, আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে—১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে জার্মান সশস্ত্র বাহিনী বুন্ডেসভেয়ার (Bundeswehr) থেকে অনুমতি নিতে হবে।

রাশিয়ার হুমকি এবং ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনার মুখে জার্মানি দ্রুত তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করছে।

এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো—যুদ্ধের মতো জাতীয় সংকটের সময় যুদ্ধোপযোগী পুরুষদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে জরুরি ভিত্তিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়।

নিয়মে বলা হয়েছে: “যে কোনো পুরুষ ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সে পৌঁছালে, তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য জার্মান ফেডারেল রিপাবলিক ত্যাগ করতে চাইলে তাকে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার সেন্টারের অনুমতি নিতে হবে।”

এই ধারাটি প্রথমে খুব একটা নজরে আসেনি। পরে বামপন্থী সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার রুন্ডশাউ বিষয়টি সামনে আনে এবং জানায়, এটি লাখো পুরুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

জার্মান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, বাস্তবে শান্তিকালীন সময়ে এই অনুমতিগুলো সবসময়ই দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ব্যতিক্রম যুক্ত করে নিয়মটি আরও শিথিল করা হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন: “এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনের সময় একটি নির্ভরযোগ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ সামরিক তালিকা রাখা... জরুরি পরিস্থিতিতে আমাদের জানতে হবে, কে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশে অবস্থান করছে।”

জার্মানির নতুন সামরিক সেবা মডেলটি সৈন্যসংখ্যার ঘাটতি মোকাবিলার জন্য চালু করা হয়েছে এবং এটি ২০১০ সালে বাতিল হওয়া অজনপ্রিয় বাধ্যতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থার একটি আধুনিক সংস্করণ।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের লক্ষ্য হলো জার্মানিকে ইউরোপের একটি প্রধান নিরাপত্তা শক্তিতে পরিণত করা, এবং তার ভাষায়—“ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত (conventional) সেনাবাহিনী” গড়ে তোলা।

জার্মানি ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ১৫৩ বিলিয়ন ইউরো (বা জিডিপির ৩.৫ শতাংশ) ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটোর ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ।

যদিও এখনো সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা হয়নি, নতুন আইন ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুদ্ধোপযোগী পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগের সুযোগ রেখে দিয়েছে, যদি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের লক্ষ্য পূরণ না হয়।

আগে জার্মান আইনে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমতির একটি ধারা ছিল, তবে সেটি শুধুমাত্র নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা—যেমন যুদ্ধের সময়—প্রযোজ্য ছিল।

কিন্তু জানুয়ারিতে আনা সংস্কারের ফলে এখন এই নিয়মটি আরও সাধারণভাবে প্রযোজ্য হয়েছে। অর্থাৎ, ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যে কোনো জার্মান পুরুষ দীর্ঘ ছুটি কাটাতে বা বিদেশে কাজ করতে চাইলে তাকে বুন্ডেসভেয়ারকে জানাতে হবে।

তবে কেউ অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়লে কী হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য এখনো নেই।

এছাড়াও ধারণা করা হচ্ছে, এই নিয়মটি হয়তো ভুলবশত পাস হয়ে গেছে, কারণ এটি জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে অনুমতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্ধারণের জন্য আরও নির্দিষ্ট বিধান তৈরি করা হচ্ছে।