তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রিটেনে ব্যাংকের ওপর নতুন করের সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় সুদের হার নিয়েও আলোচনা

ব্রিটেনে ব্যাংকের ওপর নতুন করের সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় সুদের হার নিয়েও আলোচনা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ অক্টোবর :

ব্রিটেনের অর্থনীতিতে এখন দুটি বিষয় একসঙ্গে আলোচনায়—ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর বসবে কি না এবং মূল্যস্ফীতি আবারও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠবে কি না। আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট সামনে রেখে অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন কর বসবে কি?

অর্থমন্ত্রী জন হিলি মঙ্গলবার বড় কয়েকটি ব্যাংকের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি সরকারের আর্থিক অবস্থাকে কঠিন বলে উল্লেখ করলেও ব্যাংক খাতের ওপর নতুন কোনো কর আরোপের সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন। বৈঠকে HSBC, Barclays, Lloyds, NatWest ও Santander-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সরকার ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ব্যাংকের অতিরিক্ত মুনাফার ওপর windfall tax অথবা ব্যাংকের মুনাফার ওপর বিদ্যমান অতিরিক্ত কর বাড়ানোর মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে কোনটি করা হবে, আদৌ নতুন কোনো কর বসবে কি না—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্যাংক খাতের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সরকারের জন্য ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক বড় মুনাফা অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাব্য একটি উৎস হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে PAYE, Corporation Tax, Bank Levy ও Bank Surcharge মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৩৯.১ বিলিয়ন পাউন্ড, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩.১ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।

মূল্যস্ফীতি নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ

এর মধ্যেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য ক্যাথরিন মান। তার মতে, ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতিতে অনেকটাই গেঁথে গেছে এবং আগামী বছরের শুরুতে মজুরি নির্ধারণের সময় এটি আরও শক্তভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতি ৩.১ শতাংশ, যেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। মানের আশঙ্কা, বছরের শেষ দিকে বা বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির সরকারি পরিসংখ্যান আগামী ২১ অক্টোবর প্রকাশ হওয়ার কথা।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গত সেপ্টেম্বরে সুদের হার ৩.৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে তিনজন নীতিনির্ধারক ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এখন বাজারে নভেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।

সুদের হার বাড়লে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে মর্টগেজ, ঋণ ও অন্যান্য ধার করার খরচ বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ পরিবারের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

একদিকে বাজেটে কর বাড়ানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২৮ অক্টোবরের বাজেট এবং ৫ নভেম্বর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পরবর্তী সুদের সিদ্ধান্ত এখন সাধারণ মানুষেরও বিশেষ নজরে থাকবে।