তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ইংল্যান্ডে সামাজিক আবাসনে রেকর্ড বিনিয়োগ, বাড়বে মেরামত ও নতুন ঘর নির্মাণ

ইংল্যান্ডে সামাজিক আবাসনে রেকর্ড বিনিয়োগ, বাড়বে মেরামত ও নতুন ঘর নির্মাণ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ অক্টোবর :

ইংল্যান্ডের সামাজিক আবাসন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সামাজিক আবাসনের মালিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী বছরগুলোতে পুরোনো ও প্রয়োজনীয় মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে সামাজিক আবাসন নিয়ন্ত্রক সংস্থা Regulator of Social Housing (RSH)।

৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের আর্থিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, সামাজিক আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান বাড়িগুলোর মান উন্নত করার পাশাপাশি আরও সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। একই সময়ে খাতটির আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

তবে নতুন বাড়ি তৈরি এবং পুরোনো বাড়ির মেরামত—দুই দিকেই একসঙ্গে বেশি অর্থ ব্যয় করা সহজ হচ্ছে না। বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাসযোগ্যতার মান বজায় রাখতে গিয়ে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে বড় সামাজিক আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থায় তুলনামূলক বেশি চাপ রয়েছে।

নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ড নতুন ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি অনুদান থেকে প্রায় ১৬.৩ বিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে আগামী ১০ বছরের Social and Affordable Homes Programme-এর সময়সীমায় নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনায় আরও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ হলো, শুধু বিদ্যমান সামাজিক বাড়িগুলো সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে নতুন সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংখ্যাও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ভাড়াটিয়াদের জন্য এর অর্থ কী?

সামাজিক আবাসনে থাকা মানুষের জন্য এই বিনিয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বেশি অর্থ ব্যয় করা। অর্থাৎ পুরোনো বা সমস্যাযুক্ত বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আবাসনের মান উন্নয়নে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে নতুন সামাজিক বাড়ি তৈরি হলে অপেক্ষমাণ মানুষদের জন্য ভবিষ্যতে আরও আবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বাড়ি কত দ্রুত তৈরি হবে এবং কোন এলাকায় কতটি বাড়ি হবে, তা স্থানীয় পরিকল্পনা, সরকারি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

লন্ডনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দিন আগে London Councils জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন বরোতে আগামী ১০ বছরে ৫০ হাজারের বেশি নতুন কাউন্সিল বাড়ি নির্মাণের সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১২.৩ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রয়োজন হবে।

তবে RSH সতর্ক করেছে, তাদের বর্তমান আর্থিক পূর্বাভাস ২০২৬ সালের শুরুতে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারি অনুদানের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে মূল বার্তা হলো—ইংল্যান্ডে সামাজিক আবাসন খাত একদিকে বিদ্যমান বাড়িগুলোর মেরামত ও মান উন্নয়নে রেকর্ড বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে নতুন সামাজিক ও সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনাও বাড়াচ্ছে। তবে এই বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অর্থনৈতিক চাপও কম নয়।