ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশের রবিন ডিজিটাল খাতে ভারতে বিনিয়োগ করলেন ৩০ বিলিয়ন ডলার
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ৭ জুন:
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড প্রযুক্তির বিস্ফোরক বিস্তারের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্ক। এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রবিন খুদা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর এয়ারট্রাঙ্ক জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ৫ গিগাওয়াটেরও বেশি সক্ষমতার ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নয়; বরং ভারতের এআই অবকাঠামো, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
রবিন খুদার গল্পটিও কম চমকপ্রদ নয়। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার ছাতিয়ানতলী গ্রামে। তবে সরকারি চাকরিজীবী বাবার কারণে তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। পড়াশোনা করেছেন শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং এসওএস হারম্যান গমেইনার কলেজে। ১৯৯৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং পরে হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে পরিবারসহ বসবাস করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতে সাফল্যের পাশাপাশি নারী শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক অল্প সময়ের মধ্যেই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার অপারেটরে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোন নেতৃত্বাধীন একটি জোট প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যে অধিগ্রহণ করে। এরপর রবিন খুদার সম্পদের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায় এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নেন।
ভারতে ঘোষিত নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এয়ারট্রাঙ্ক শুধু ডেটা সেন্টার ব্যবসাতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর সেই যাত্রার নেতৃত্বে থাকবেন সিরাজগঞ্জের শেকড় থেকে উঠে আসা এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা—রবিন খুদা।