রাজনীতি ছাড়ছেন না শেখ হাসিনা, দিলেন নতুন বার্তা
ভারত প্রতিনিধি, ১০ জুন: ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার যে চিন্তা তিনি একসময় করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর বাস্তবায়ন করছেন না। দেশের জনগণ, দলীয় নেতা-কর্মী এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
মঙ্গলবার, ৯ জুন নয়াদিল্লিতে ভারতের ‘এই সময়’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বহুবার নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি মনে করেন, দেশের জনগণ ও দলীয় কর্মীদের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের মূল শিক্ষা এসেছে শেখ মুজিবুর রহমানে কাছ থেকে। সেই শিক্ষা অনুযায়ী সংকটের সময়ে মানুষের পাশে থাকাই তার কর্তব্য। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নানা ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মুখে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন আসে না।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি বরাবরই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার পক্ষে। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবসরের সিদ্ধান্তে যেতে চান না।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসরের বিষয়ে ভাববেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল কোনো ব্যক্তির পারিবারিক সম্পত্তি নয়। দলের কাউন্সিল এবং কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে জানান তিনি।
তরুণ নেতৃত্বের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও যারা দলের আদর্শ ধরে রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব উঠে আসবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দলের জন্য অবদান রাখা প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতাকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন বলে বিশ্বাস করেন। তার ভাষায়, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান।