ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৫ দেশে একসাথে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ জুন:
রোববার রাতে (৭ জুন) ভুটানের পুনাখা জেলা থেকে উৎপত্তি হওয়া ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে কম্পন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পুনাখা জেলা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে, বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)।
ভূমিকম্পের কম্পন ভুটান ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত ও চীনের কিছু অংশে অনুভূত হয়। বাংলাদেশে ঢাকাসহ একাধিক জেলায় এই কম্পন টের পাওয়া যায়। রাজধানীর পাশাপাশি খুলনা, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, গাজীপুর, শারীয়তপুর, যশোর, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা এবং ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ হঠাৎ কম্পন অনুভব করে আতঙ্কে ঘরবাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ান ভূ-অঞ্চলের সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণেই এই ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে এই ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পই বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হয়। তারা বলছেন, যদি এর চেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প—ধরা যাক ৬.৫ বা তার বেশি মাত্রার কোনো শক্তিশালী কম্পন—ঢাকাকেন্দ্রিক এলাকায় আঘাত হানে, তাহলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা, যেখানে অনেক ভবন এখনো পুরনো নির্মাণমান অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
একইভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মতো শিল্প ও জনবহুল জেলাগুলোতেও উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি, যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন এবং জনজীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল নির্মাণ কাঠামোর ভবনগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
রাতের এই কম্পন তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি মনে করিয়ে দেয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূগর্ভ এখনো সক্রিয়, আর ভবিষ্যতের বড় কোনো ঝাঁকুনি মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।