ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

সাংবাদিকতার নামে অপতথ্য ও রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক

সাংবাদিকতার নামে অপতথ্য ও রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক

ঢাকা প্রতিনিধি, ৮ জুন:

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সাংবাদিকতার নামে একাংশ ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে। এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বক্তব্য দেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অনুপস্থিত থাকায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রশ্নগুলোর জবাব দেন।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গুম, খুন, ভোট চুরি ও ব্যাংক লুটের মতো অভিযোগিত ঘটনার পক্ষে ‘সম্মতি উৎপাদন’ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এমন ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে এবং তারা এখনো রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক প্রচারণায় যুক্ত।

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাকেও বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে—যা গণমাধ্যমের নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলেও কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার ভাষায়, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করলে—সে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ বা অন্য যেই হোক—তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি পর্যবেক্ষণে একটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়ার জন্য নীতিমালা হালনাগাদ ও অনলাইন গণমাধ্যমের অনুমোদন প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে।

অন্যদিকে নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম হিলালী অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নীতিমালা আপডেটের কাজ চলমান।

নোয়াখালী-২ আসনের এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক–এর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সামাজিক মাধ্যমে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে একটি পর্যবেক্ষণ টিম সক্রিয় রয়েছে।

কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান–এর প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যম অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নাধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিডিয়া অনুমোদন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।

এছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আনিছুর রহমান–এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চলছে।

সংসদে আলোচিত এসব বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।