ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রিটেনে বিদেশিদের কাউন্সিল হাউজিং বন্ধ করতে চায় কজারভেটিভ পার্টি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ আগস্ট:
যুক্তরাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের কাউন্সিল হাউজিং বা সামাজিক আবাসন সুবিধা বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, ব্রিটেনকে বিদেশিদের জন্য ‘ক্যাশ মেশিন’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
টোরিদের প্রস্তাব কার্যকর হলে নন-ইইউ দেশগুলোর প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পরিবার তাদের বর্তমান কাউন্সিল হাউজিং নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
ব্যাডেনকের পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক আবাসন বরাদ্দে ব্রিটিশ নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া। কনজারভেটিভদের যুক্তি, দেশে কাউন্সিল হাউজিংয়ের সংকট তীব্র। দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্রিটিশ পরিবারগুলোকে আবাসন দিতে হলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন।

টোরিদের মতে, যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার থাকলেই সরকারি আবাসনের ক্ষেত্রে সবার সমান সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে যেসব বিদেশি নাগরিকের স্থায়ী বসবাসের অধিকার নেই, তাদের জন্য সামাজিক আবাসনের নিয়ম আরও কঠোর করার কথা বলছে দলটি।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। কারণ সামাজিক আবাসনে বসবাসকারী বিদেশি পরিবারগুলোর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাদের কেউ কেউ স্থানীয় অর্থনীতি ও সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এ কারণে সমালোচকদের প্রশ্ন, শুধু নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-স্থিতির ভিত্তিতে কাউন্সিল হাউজিং প্রত্যাহার করলে পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে?
এতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কাউন্সিল হাউজিং থেকে কোনো পরিবারকে সরিয়ে দিলে তাদের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে যে নীতির মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বলা হচ্ছে, সেটিই অন্যদিকে নতুন ব্যয়ের কারণ হতে পারে।
তবে কনজারভেটিভ পার্টি বলছে, সীমিত সামাজিক আবাসন সুবিধা প্রথমে তাদের জন্য নিশ্চিত করা উচিত যারা ব্রিটেনের নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে আবাসনের সংকটে রয়েছেন।
ব্যাডেনকের ঘোষণাকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে টোরিদের আরও কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে অভিবাসন, আবাসন এবং সরকারি কল্যাণ সুবিধার ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাইছে দলটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে এর আইনগত ও মানবিক দিকও বিবেচনা করতে হবে। কারণ কাউন্সিল হাউজিং থেকে বিপুলসংখ্যক পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু আবাসন নীতিতে নয়, ব্রিটেনের অভিবাসন ও সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে, আবাসন সংকটে থাকা হাজার হাজার ব্রিটিশ পরিবারের কাছে টোরিদের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
ফলে কে কাউন্সিল হাউজিং পাওয়ার অধিকার রাখে—ব্রিটিশ নাগরিক, নাকি যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী সবাই—এই প্রশ্নটি আগামী দিনে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হতে পারে।