ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

দশ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা

দশ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :

গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। বর্তমান বিনিময়মূল্য ডলারে ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, এক বছরেই বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

ঋণের বড় অংশ রয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে বাংলাদেশের মোট ঋণ প্রায় ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। অন্যদিকে জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর কাছে ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিদেশি ঋণ রয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

ঋণের পরিমাণ বাড়লেও জাতীয় আয়ের তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশে রয়েছে। রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানি থেকে অর্জিত প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে।

এদিকে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৪ বছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।

আগামী দিনে ঋণের কিস্তির চাপ আরও বাড়তে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কয়েকটি প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন এখন শুধু বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত, তা নয়; বরং এসব ঋণে নির্মিত প্রকল্পগুলো থেকে কতটা আয়, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক সুফল আসছে এবং সেই আয় দিয়ে ভবিষ্যতের ঋণের কিস্তি কতটা নির্বিঘ্নে পরিশোধ করা সম্ভব হবে।