বিলেতি বিকেল—স্বল্পদৈর্ঘ্যে সময়ের ছবি, জীবনের প্রতিচ্ছবি
বিলেতি বিকেল ।। ২ ।। বিনিয়োগে সমস্যা নেই, তাহলে কারখানা বন্ধ হচ্ছে কেন?
নতুন ধারাবাহিক, নতুন আঙ্গিক, নতুন আয়োজন—আজ থেকে শুরু হলো ‘বিলেতি বিকেল’।
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ লেখা পড়ার সময় সবার হয় না। তাই প্রতিদিনের সমসাময়িক ঘটনা, সমাজ, রাজনীতি ও জীবনের নানা অসংগতি নিয়ে থাকছে দুই-তিন মিনিটের ছোট্ট কলাম। কখনো একটু হাসি, কখনো মৃদু ব্যঙ্গ, কখনো রসালো কটাক্ষ—তবে কাউকে আঘাত করা নয়, বরং হাসতে হাসতে কিছু কথা বলা।
বাসে, ট্রেনে কিংবা অবসরের এক ফাঁকে পড়ে নেওয়া যাবে।
‘কলিকালের কলধ্বনি’ চলবে তার নিজস্ব ধারায়। পাশাপাশি প্রতিদিন সঙ্গী হবে ‘বিলেতি বিকেল’।
পাঠকবন্ধুদের ভালোবাসা ও সঙ্গ প্রত্যাশা করছি।
বিনিয়োগে সমস্যা নেই, তাহলে কারখানা বন্ধ হচ্ছে কেন?
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশ্বাস, পোশাকশিল্পে কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষে বিনিয়োগে কোনো প্রভাব পড়বে না। তাঁর যুক্তি, বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়; সাময়িক অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীরা দুই পা পিছিয়ে যাবেন না। যুক্তিটা ঠিক। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তবতা কি এতটাই সরল?
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে, যা তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়েছে চার শতাধিক কারখানা। অনেক চালু কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। ব্যাংকে আমানত বাড়ছে, অথচ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি সবাই কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের ভয়ে বসে আছেন? নিশ্চয়ই নয়। উচ্চ সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয়, কর-ভ্যাটের চাপ এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগের হিসাবটাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, অস্থিরতা কাম্য নয়। কিন্তু শুধু শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ করলেই বিনিয়োগের সুদিন ফিরবে না। বিনিয়োগকারীরা আশ্বাসের চেয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিরাপত্তা ও নীতির ধারাবাহিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
সরকারের কাছে তাই প্রশ্ন, বিনিয়োগকারীদের দুই পা পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে এত চিন্তা কেন, যখন তাঁদের সামনে এগোনোর মতো পরিবেশই তৈরি হয়নি?
আশ্বাস দিয়ে আস্থা তৈরি করা যায় না; বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করেই আস্থা অর্জন করতে হয়।
লন্ডন, ৭ নভেম্বর ২০২৬