লন্ডনে মেটা কর্মীর বিরুদ্ধে ৩০ হাজার ব্যক্তিগত ছবি চুরির অভিযোগ, তদন্তে মেট পুলিশ

লন্ডনে মেটা কর্মীর বিরুদ্ধে ৩০ হাজার ব্যক্তিগত ছবি চুরির অভিযোগ, তদন্তে মেট পুলিশ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ এপ্রিল: 

লন্ডনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা–র এক সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তিগত ফেসবুক ছবি অবৈধভাবে ডাউনলোড করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে ফৌজদারি তদন্ত, যা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একজন বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মী মেটায় কর্মরত থাকাকালীন এমন একটি বিশেষ প্রোগ্রাম বা স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন, যার মাধ্যমে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ছবি অ্যাক্সেস ও ডাউনলোড করা সম্ভব হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার চাকরির সময়ই প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করেন। এই কাজটি তিনি পরিকল্পিতভাবে করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—যেখানে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পাশ কাটানোর কৌশল তৈরি করেন।

মেটা জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি সময় আগে তারা এই অনিয়ম শনাক্ত করে। এরপর দ্রুত ওই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের অবহিত করা হয় এবং বিষয়টি যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। একইসঙ্গে কোম্পানিটি তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলেও দাবি করেছে।

বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং পুলিশি জামিনে রয়েছেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাকে আগামী মে মাসে আবারও মেট পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং বিদেশ ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছি।”

উল্লেখ্য, গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে মেটা ও গুগল একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় হেরে যায়। সেখানে অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর শৈশবের আসক্তি রোধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেটা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ জন বেইনসের মতে, কোনো কর্মী যদি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেন, তবে তা ডেটা সুরক্ষা ও কম্পিউটার অপব্যবহার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তবে প্রতিষ্ঠান যদি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে থাকে, তাহলে সাধারণত দায় কর্মীর ওপরই বর্তায়। কিন্তু যদি প্রমাণ হয় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, তাহলে কোম্পানিকেও বড় অঙ্কের জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মুখে পড়তে হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের কার্যালয় (ICO) এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আশা করেন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হবে—এটাই স্বাভাবিক।”

ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার চ্যালেঞ্জ ততই জটিল হয়ে উঠছে।