ফোনমুক্ত স্কুলে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের জীবন, লন্ডনের বার্নেট দেখাচ্ছে নতুন পথ

ফোনমুক্ত স্কুলে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের জীবন, লন্ডনের বার্নেট দেখাচ্ছে নতুন পথ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ জুলাই:

স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক ও পড়াশোনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে—এমন দাবি করেছে লন্ডনের বার্নেট বরো। শিক্ষার্থীরা এখন আগের চেয়ে বেশি মনোযোগী, আনন্দময় এবং একে অপরের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্কুলগুলো।

লন্ডনের উত্তরাঞ্চলের এই বরোতে সব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করা হয়েছে। এর ফলে ক্লাসরুমে মনোযোগ বেড়েছে, শৃঙ্খলা উন্নত হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বার্নেটের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, আগে বিরতির সময়ও অনেক শিক্ষার্থী ফোনের পর্দায় ডুবে থাকত। ফলে সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, খেলাধুলা করা কিংবা নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করার সুযোগ কমে যাচ্ছিল। ফোন নিষিদ্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আবার মাঠে খেলছে, গল্প করছে এবং সামাজিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

একজন শিক্ষক বলেন, “শুরুতে অনেক শিক্ষার্থী ভেবেছিল ফোন ছাড়া থাকা কঠিন হবে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তারা বুঝতে পারে, স্কুলের সময়টা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।”

শিক্ষার্থীদের আচরণেও পরিবর্তন

স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, ফোন বন্ধের পর ছোটখাটো বিরোধ, মনোযোগের ঘাটতি এবং ক্লাসে বিঘ্ন ঘটানোর ঘটনা কমেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধৈর্য, সহযোগিতা এবং মুখোমুখি যোগাযোগের দক্ষতাও বেড়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা প্রথম দিকে ফোন না থাকায় অস্বস্তি অনুভব করলেও পরে বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছে। এখন তারা অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা বা অন্য সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দিচ্ছে।

ডিজিটাল আসক্তির বিরুদ্ধে নতুন ভাবনা

শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন শিক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত ব্যবহার মনোযোগ, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বার্নেটের উদ্যোগকে অনেকেই যুক্তরাজ্যের অন্যান্য এলাকার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাস চলাকালীন ফোন ব্যবহারের বিষয়ে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের কথা ভাবছে।

‘ফোন নয়, সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ’

বার্নেটের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তির যুগেও শিশুদের জন্য সরাসরি মানবিক সম্পর্ক, খেলাধুলা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীরা ফোন হারায়নি; বরং তারা ফিরে পেয়েছে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ।

শিক্ষাবিদদের মতে, আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন, তবে সেটি যেন শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা ও মানবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করে—সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বার্নেটের ফোনমুক্ত স্কুল নীতি তাই শুধু মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং শিশুদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সামাজিক ভবিষ্যৎ গড়ার একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।