যুদ্ধবিরতি সমর্থনে সৌদি আরবে স্টারমার
হরমুজ প্রণালী খুলতে ‘যা সম্ভব সবই করতে হবে’—ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ এপ্রিল: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইরান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে সৌদী আরব সফরে পৌঁছেছেন।
তিনি বলেন, ডোলান্ড ট্রাম্প-এর ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বিশ্ববাসীর জন্য “একটি স্বস্তির মুহূর্ত” বয়ে আনবে। তবে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে এখনও “অনেক কাজ বাকি” রয়েছে।

ট্রাম্প এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ঠিক সেই সময়সীমার আগে, যেটি তিনি ইরানকে দিয়েছিলেন—হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে “পুরো একটি সভ্যতার ধ্বংস” ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
সৌদি আরবে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্টারমার বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন দেশকে একত্রিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সংঘাতে যুক্তরাজ্যের সরাসরি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, “একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মতোই আমি কাজ করেছি—আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের নীতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী আমরা এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপে যাইনি, যার আইনি ভিত্তি নেই বা সুপরিকল্পিত নয়।”
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই সফরে স্টারমার উত্তেজনা প্রশমন এর প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে “বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ” নিয়ে আলোচনা করবেন।
তিনি উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে মো: বিন সালমান এর সঙ্গে বৈঠক করবেন—যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুটে স্থায়ীভাবে চলাচল নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে।
স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যকে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে “যা সম্ভব সবই করতে হবে”।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এই যুদ্ধবিরতি অঞ্চল ও বিশ্বে স্বস্তি এনে দেবে। আমাদের মিত্রদের সঙ্গে মিলেই এটিকে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।”
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী Yvette Cooper যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও লেবাননে দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, ইসরায়েল ইরানে হামলা বন্ধে সম্মত হলেও লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। মার্চের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়—কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।