ব্রিটিশ জলসীমায় রাশিয়ার গোপন সাবমেরিন অভিযান: অদৃশ্য যুদ্ধের নতুন সংকেত
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৯ এপ্রিল:
লন্ডনের আকাশে কোনো সাইরেন বাজেনি, সমুদ্রেও ওঠেনি দৃশ্যমান কোনো ঝড়—কিন্তু জলের নিচে নীরবে চলেছে এক অদৃশ্য টানাপোড়েন। সেই গোপন উত্তেজনার কথাই সামনে এনেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেলি।
তিনি জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস ধরে ব্রিটিশ জলসীমায় ঘোরাফেরা করেছে রাশিয়ার একটি আক্রমণাত্মক সাবমেরিন ও দুটি বিশেষায়িত গুপ্তচর জাহাজ। এদের গতিবিধি নজরে রেখেছিল রয়েল নেভি—অবশেষে তারা সরে গেলেও প্রশ্ন রেখে গেছে অনেক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ছিল একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন—সম্ভবত ‘আকুলা’ শ্রেণির—যেটি ছিল মূলত বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল। আসল কাজটি করছিল রাশিয়ার গভীর সমুদ্র গবেষণা ইউনিট ‘GUGI’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সাবমার্সিবল। তাদের অবস্থান ছিল এমন জায়গায়, যেখানে সমুদ্রের তলদেশে বিছিয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা কেবল ও জ্বালানি পাইপলাইন—যেগুলো ইউরোপের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণরেখা।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবহার করেছে সোনার বয়া—এক ধরনের সতর্ক সংকেত, যেন বলা হয়: “আমরা দেখছি।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে—এই অবকাঠামোয় আঘাত এলে তা সহ্য করা হবে না।
এই ঘটনার পরপরই ইংলিশ চ্যানেলে দেখা যায় রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘Admiral Grigorovich’—যা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর পূর্বঘোষিত কঠোর অবস্থানের সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ জাহাজ দূর থেকে অনুসরণ করলেও কোনো হস্তক্ষেপ করেনি—যা অনেকের চোখে কূটনৈতিক সংযম, আবার কারও কাছে দুর্বলতার ইঙ্গিত।
ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে ব্রিটিশ সামরিক সক্ষমতার বাস্তব চিত্র। সাবেক নৌপ্রধান Alan West ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন—বাহিনীর অবস্থা উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কটাক্ষ কম নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth ব্রিটিশ নৌবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই পুরো ঘটনাটি এক নতুন বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত দেয়—যেখানে যুদ্ধ মানেই গোলাবর্ষণ নয়, বরং অবকাঠামো, তথ্যপ্রবাহ ও শক্তির ওপর নীরব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
সমুদ্রের গভীরে বিছিয়ে থাকা তারগুলো কেবল ডেটা বহন করে না, বহন করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনীতি আর ভবিষ্যৎ। আর সেই কারণেই, এই নীরব অভিযানের গুরুত্ব অনেক বড়—যদিও তা চোখে দেখা যায় না।
সমুদ্র শান্ত—কিন্তু তার নিচে যে খেলা চলছে, সেটি নিঃসন্দেহে বিশ্বরাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত।