জার্মানিতে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ বেড়েছে ৭১ শতাংশ

জার্মানিতে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ বেড়েছে ৭১ শতাংশ

জার্মান প্রতিনিধি, ১১ ফেব্রুয়ারি: জার্মানিতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

বুন্ডেসটাগে বিরোধী দল লেফট পার্টি–এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের (বিকেএ) নথিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক মোট ৮১৮টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ছিল সহিংস হামলা। এই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২৩ সালে মাসিক গড় ছিল মাত্র ২৪টি

ডানপন্থি প্রভাব সবচেয়ে বেশি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব অপরাধের পেছনে বিভিন্ন মতাদর্শিক প্রভাব কাজ করেছে। এর মধ্যে
২৪৪টি ঘটনা ডানপন্থি রাজনৈতিক প্রভাবে সংঘটিত,
৭৮টি বামপন্থি প্রভাবে,
১৫৩টি বিদেশি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত,
৩১টি ধর্মীয় মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তবে সবচেয়ে বড় অংশ—৩১২টি ঘটনা—কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শ্রেণিতে সরাসরি চিহ্নিত করা যায়নি।

সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে

মোট নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ৮৯টি ঘটনায় সরাসরি সহিংসতা ছিল। এসবের মধ্যে রয়েছে ৭৩টি শারীরিক হামলা, ১৩টি গ্রেপ্তার প্রতিরোধে সহিংসতা, ২টি অগ্নিসংযোগ এবং ১টি ডাকাতির ঘটনা
এ ছাড়া ২১১টি অপরাধ ঘটেছে বিভিন্ন জনসমাবেশ বা বিক্ষোভ চলাকালে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনায় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিয়েছে।

হুমকি, উসকানি ও সম্পত্তি ক্ষতি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সহিংসতার পাশাপাশি হুমকি ও উসকানিমূলক অপরাধও বেড়েছে। নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১০১টি জবরদস্তি বা হুমকি, ৫৩টি বর্ণবিদ্বেষমূলক উসকানি, ৪৭টি প্রচারণামূলক অপরাধ এবং ৪৩টি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের ঘটনা

জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

লেফট পার্টির প্রেস মুখপাত্র ডেভিড শ্লিসিং বলেছেন, “হামলার সংখ্যা অত্যন্ত বেশি এবং এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

জার্মানিতে গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও সহিংসতা ক্রমেই বাড়তে থাকায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক সমাজ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে।