তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

DWP-র ১,০০০ পাউন্ড বকেয়া হলেই লাইসেন্স বাতিল নয়

DWP-র ১,০০০ পাউন্ড বকেয়া হলেই লাইসেন্স বাতিল নয়

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৩ অক্টোবর :

যুক্তরাজ্যে কর্ম ও পেনশনবিষয়ক সরকারি বিভাগ ডিডব্লিউপির (DWP) কাছে অন্তত ১,০০০ পাউন্ড বকেয়া থাকলেই কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হবে না। তবে নির্দিষ্ট শর্তে বকেয়া অর্থ আদায়ের শেষ পদক্ষেপ হিসেবে আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গাড়ি চালানোর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব। এ-সংক্রান্ত নতুন আইনি ক্ষমতা ২০২৬ সালের ২৪ জুন কার্যকর হয়েছে। অক্টোবর থেকে এই ক্ষমতাগুলোর প্রয়োগ ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে সরকার।

ডিডব্লিউপি যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পরিচালনা করে। ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ বিভিন্ন ভাতা ভুল হিসাবের কারণে অতিরিক্ত পাওয়া হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে হয়। নতুন বিধানের আওতায় যাঁরা ভাতা পাওয়া বন্ধ করেছেন এবং সরকারের কাছে পাওনা অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

তবে এই ব্যবস্থা সব ঋণগ্রস্ত মানুষের জন্য নয়। এর আওতায় মূলত ডিডব্লিউপির কাছে পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যাঁরা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অর্থ পরিশোধ করছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কখন ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হবে?

সরকারের প্রকাশিত আচরণবিধি অনুযায়ী, ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার জন্য বকেয়ার পরিমাণ অন্তত ১,০০০ পাউন্ড হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তখন ডিডব্লিউপির কোনো ভাতা গ্রহণকারী বা ভাতা পাওয়ার অধিকারী হতে পারবেন না। এ ছাড়া বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়া কিংবা ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আদায়ের মতো বিকল্প উপায়ে পাওনা আদায় যুক্তিসংগতভাবে সম্ভব না হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আদালতকে বিবেচনা করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য ছিল কি না এবং যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি কি না। ফলে শুধু ১,০০০ পাউন্ড বকেয়া থাকলেই ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না।

প্রথমে আদালতের আদেশ, পরে নিষেধাজ্ঞা

ডিডব্লিউপি নিজে থেকে কোনো ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করতে পারে না। প্রথমে আদালতের কাছে আবেদন করতে হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে প্রাথমিকভাবে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারে। এই আদেশে নির্ধারিত কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবেন।

কিন্তু আদালতের নির্ধারিত কিস্তি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পরিশোধ না করলে ডিডব্লিউপি আবার আদালতে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে পারে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখা সম্ভব। সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ হলে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য আদালতে পদক্ষেপ নিতে হয়।

যাঁদের জীবিকার জন্য গাড়ি চালানো জরুরি

যাঁদের পেশা বা জীবিকা নির্বাহের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স অপরিহার্য, তাঁদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুরিয়ার ও ডেলিভারি চালক কিংবা যাঁদের কাজের জন্য গাড়ি চালানো অত্যাবশ্যক, তাঁদের প্রয়োজন আদালতে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

আদালত যদি মনে করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবিকা নির্বাহ বা অন্য কোনো অপরিহার্য কারণে গাড়ি চালানো প্রয়োজন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারবে না। তবে এই প্রয়োজনের বিষয়টি আদালতের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

ব্যাংক হিসাব থেকেও অর্থ আদায়ের ক্ষমতা

নতুন বিধানে ডিডব্লিউপিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশ ছাড়াই ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি বকেয়া অর্থ আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া, আর্থিক সামর্থ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ব্যয় বিবেচনার বিধান রয়েছে।

সরকারি আচরণবিধি অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আদায় বা ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ডিডব্লিউপিকে বিকল্প উপায়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। ব্যক্তির আর্থিক অসুবিধা থাকলে তা বিবেচনা করতে হবে।

বকেয়া থাকলে কী করবেন?

ডিডব্লিউপির কাছে অর্থ বকেয়া থাকলে সরকারি চিঠি উপেক্ষা না করে দ্রুত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা চাওয়া যেতে পারে।

বকেয়ার পরিমাণ বা অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে পুনর্বিবেচনা বা আপিলের সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা বিনা মূল্যে স্বাধীন ঋণ-পরামর্শ পরিষেবার সহায়তাও নিতে পারেন।

সরকার জানিয়েছে, নতুন ক্ষমতাগুলো মূলত শেষ পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ডিডব্লিউপির সঙ্গে যোগাযোগ করে সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশোধের ব্যবস্থা করা গেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ডিডব্লিউপির কাছে ১,০০০ পাউন্ড বা তার বেশি বকেয়া থাকলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়—এমন দাবি সঠিক নয়। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ, বিকল্প উপায়ে অর্থ আদায় সম্ভব না হওয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই কেবল ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে।