‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ: এক সপ্তাহে ১৬ শ অভিবাসীর আগমন

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ: এক সপ্তাহে ১৬ শ অভিবাসীর আগমন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৩ অক্টোবর : ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ঘটনা আবারও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসননীতি নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত সাময়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট ১ হাজার ৬২০ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ অক্টোবর ৯১ জন, ৩ অক্টোবর ১৬৪ জন, ৪ অক্টোবর ৪১৮ জন, ৫ অক্টোবর ৬০৯ জন এবং ৬ অক্টোবর ৩৩৮ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। এসব মানুষ মোট ২১টি নৌকায় এসেছেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর কোনো আগমনের তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।

তবে এই সংখ্যা সাময়িক এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কার্যক্রমভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী যাচাইয়ে পরিসংখ্যানে পরিবর্তন হতে পারে। তাই এটিকে পুরো অক্টোবরের হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। চলতি মাসের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফ্রান্স থেকে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় দুজন অভিবাসীর মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়। একই সময়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করা, সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা কমানো এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা। অন্যদিকে, শরণার্থী ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা নিরাপদ ও বৈধ পথে আশ্রয় চাওয়ার সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রভাব বৈধ অভিবাসন, আশ্রয়প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক পরিবেশে পড়তে পারে। তবে ছোট নৌকায় আসা সব ব্যক্তিকে একই পরিচয় বা উদ্দেশ্যের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক নয়; তাঁদের প্রত্যেকের পরিস্থিতি ও আইনি অবস্থান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়।