আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি সরকার—জুলাই সংগঠকদের ওপর হামলার অভিযোগ
ঢাকা, ১২/১২/২৫: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি ও জুলাই সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার স্পর্শকাতর তথ্য সরকারকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তালিকায় ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক আইনজীবীর মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে প্রাপ্ত এসব তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিন নেতাই পৃথকভাবে হুমকির বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীলদেরও জানিয়েছিলেন। ওই আইনজীবী পেশাগত কারণে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার হাতে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে বলেও দাবি করা হয়।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে হামলার খবর পেয়ে সরকারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, হামলার আশঙ্কা বাড়ায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবী ঢাকায় এসে হাদি, ফুয়াদ ও হাসনাতের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও দেন। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নেওয়ার প্রস্তাব এলেও মাঠের রাজনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হামলার পর আইনজীবী বলেন, আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও ঘটনা ঠেকানো যায়নি, ফলে অন্য নেতারাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
নভেম্বরেও নিজের ফেসবুক পোস্টে ওসমান হাদি জানিয়েছিলেন, বিদেশি নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পুলিশ বলছে, হামলায় বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের যোগসাজশ থাকতে পারে এবং ‘গারো ফিলিপ’ নামে এক ভাড়াটে কিলারকে খুঁজে পেতে অভিযান চলছে।