বাংলাদেশ সংবাদ
গত দুই দিনে রাজধানী ঢাকায় অন্তত দুই ডজনের বেশি ককটেল বিস্ফোরণ !
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৯ সেপ্টেম্বর:
রাজধানী ঢাকায় টানা দুই দিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখলে বিস্ফোরণের সংখ্যা দুই ডজনের কাছাকাছি বা তারও বেশি দাঁড়ায়। তবে স্থানভেদে একই ঘটনার সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর শুধু সাতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে জাগো নিউজ।
১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, মৌচাক ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মালিবাগে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য রয়েছে। মহাখালীতে ফ্লাইওভার থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনেও বিস্ফোরণের খবর আসে। যাত্রাবাড়ীতে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে একজন রিকশাচালক আহত হন।
একই দিন সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ফলে একদিনেই রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্থান ও সংখ্যায় পার্থক্য থাকলেও ১৮ সেপ্টেম্বরের মোট বিস্ফোরণ ১৪টি হিসেবে একটি পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ইনকামিং লেনে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে বিল্লাল নামে এক রিকশাচালক আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ককটেলগুলো বিস্ফোরণ ঘটায়।
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্টেশনে বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।
১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও অন্যান্য অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। মিরপুর-১১, মিরপুর-১ ও মধ্য বাড্ডায় বাসে আগুন এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পরপর দুই দিনের এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো এবং পুলিশের টহল বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।