লন্ডনের কিছু এলাকায় সরকারি আবাসন সহায়তা ও প্রকৃত ভাড়ার ব্যবধান মাসে ৩০০ পাউন্ড ছাড়িয়েছে
ভাড়ার চাপে বিপাকে যুক্তরাজ্যের ১১ লাখ নিম্নআয়ের পরিবার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২০ সেপ্টেম্বর:
ভাড়া বাড়ছে, কিন্তু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের জন্য সরকারের আবাসন সহায়তা একই জায়গায় আটকে আছে। ফলে যুক্তরাজ্যে ১১ লাখের বেশি নিম্নআয়ের ভাড়া করা পরিবার বড় ধরনের আবাসন-ব্যয়ের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন।
শনিবার প্রকাশিত সংস্থাটির নতুন গবেষণা অনুযায়ী, বেসরকারি বাসাবাড়ির ভাড়া ও সরকারের লোকাল হাউজিং অ্যালাওয়েন্স (এলএইচএ)-এর ব্যবধান এখন প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এলএইচএ হলো বেসরকারি বাসায় থাকা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ আবাসন সহায়তার পরিমাণ।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এলএইচএ নগদ হিসাবে আর বাড়েনি। অন্যদিকে, ওই সময়ের পর থেকে বেসরকারি বাড়ির ভাড়া ক্রমাগত বেড়েছে। ফলে সরকারি সহায়তা দিয়ে প্রকৃত ভাড়ার একটি অংশ মেটানো increasingly কঠিন হয়ে পড়েছে।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ইংল্যান্ডে দুই শয়নকক্ষের একটি সাধারণ ভাড়ার বাড়ির ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাড়া ও এলএইচএর ব্যবধান এখন গড়ে মাসে ১৫৮ পাউন্ড। লন্ডনে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ইনার ইস্ট লন্ডনে এই ব্যবধান মাসে ৩২৪ পাউন্ডে পৌঁছেছে। লন্ডনের আরও তিনটি এলাকায় ব্যবধান ২৫০ পাউন্ডের বেশি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অর্ধেকের বেশি স্থানীয় ভাড়া এলাকায় দুই শয়নকক্ষের বাড়ির ভাড়া ও এলএইচএর ব্যবধান মাসে ১০০ পাউন্ডের বেশি। ইংল্যান্ডের প্রতিটি অঞ্চলে অন্তত একটি করে এমন এলাকা রয়েছে।
সমস্যার আরেকটি দিক হলো—এলএইচএ মূলত স্থানীয় বাজারের তুলনামূলক কম ভাড়ার ৩০ শতাংশ বাড়ি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু এই কাঠামো গত কয়েক বছরে নিয়মিতভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় বাজারভাড়ার সঙ্গে সরকারি সহায়তার ব্যবধান বাড়ছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর থেকে এলএইচএ আবার স্থির করে রাখা হয়েছে।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ এলএইচএ ও বাজারভাড়ার ব্যবধান প্রায় ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ভাড়া বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে এই ব্যবধান আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় পড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, সমস্যায় থাকা অনেক পরিবার বাড়ি গরম রাখা কিংবা প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের খরচ সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছে।
ভাড়ার এই সংকটের সঙ্গে অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডে অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যা ইতোমধ্যে রেকর্ড ১ লাখ ৩২ হাজারে পৌঁছেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো ২০২৪–২৫ অর্থবছরে অস্থায়ী আবাসনের পেছনে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন এলএইচএকে স্থানীয় ভাড়ার সঙ্গে আবার যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, ২০২৯–৩০ সাল পর্যন্ত এই সহায়তা বর্তমান অবস্থায় স্থির রাখার বদলে নিয়মিত হালনাগাদ করতে গেলে ওই অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এটি রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের নীতিগত সুপারিশ। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এলএইচএর হার প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কল্যাণব্যবস্থা ও সরকারি অর্থের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।
আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটকে সামনে রেখে আবাসন সহায়তা বাড়ানো হবে কি না, সেটিই এখন নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
লন্ডনের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বেসরকারি বাসায় ভাড়া থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া মেটাতে অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চাপ আরও বাড়তে পারে।