তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ব্রিটেনে অবৈধ কর্মী নিয়োগ ঠেকাতে নতুন আইন, ইমিগ্রেশন রেইড নিয়ে মুখোমুখি লন্ডনের সাত কাউন্সিল
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ অক্টোবর:
ব্রিটেনে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর করেছে সরকার। এখন শুধু সরাসরি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঠিকাদার, সাবকন্ট্রাক্টর এবং গিগ-ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর্মীদের যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অনুমতি যাচাইয়ের দায়িত্ব নিতে হতে পারে। কোনো কর্মীর কাজের অনুমতি না থাকলে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থার ওপরের স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরিমানার মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে সহযোগিতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লন্ডনের অন্তত সাতটি কাউন্সিল। তাদের দাবি, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলে স্থানীয় কাউন্সিলের কর্মী, সম্পদ ও তথ্য ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহায়তা করা উচিত নয়। তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে লন্ডন অ্যাসেম্বলি। ফলে অবৈধ কর্মী নিয়োগবিরোধী সরকারি অভিযান এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে লন্ডনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর নতুন বিধান
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ৩০ জুন ঘোষণা করে, ২০২৫ সালের বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় কাজ করার অনুমতি যাচাইসংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, নতুন নিয়ম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন বিধানের লক্ষ্য হলো, কর্মী নিয়োগের ধরন পরিবর্তিত হলেও যেন কাজের অনুমতি যাচাইয়ের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া না যায়। বিশেষ করে একাধিক ঠিকাদার বা সাবকন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে কর্মী সরবরাহ, অস্থায়ী কাজ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মনির্ভর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ।
আগে কাজ করার অনুমতি যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রধানত সরাসরি নিয়োগকর্তার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ধরনের চুক্তির অধীনে কর্মী নিয়োগ, ব্যক্তিগত সাবকন্ট্রাক্ট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠানও নিয়মের আওতায় আসতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রমবাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে কাজের অনুমতি যাচাইয়ের নিয়মকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে। তবে সব ঠিকাদার বা ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একইভাবে দায় তৈরি হবে না। প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, চুক্তির ধরন এবং কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রকৃতির ওপর দায়িত্ব নির্ভর করবে।
ঠিকাদার ও সাবকন্ট্রাক্টরদেরও জরিমানার ঝুঁকি

নতুন বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্দিষ্ট কাজ বা সেবা সরবরাহের চুক্তি নিয়ে পরে সেই কাজের পুরোটা বা অংশবিশেষ সাবকন্ট্রাক্টরকে দিয়ে দিলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থার ওপরের স্তরের প্রতিষ্ঠানও দায়ী হতে পারে।
ধরা যাক, একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান কোনো খুচরা বিক্রেতার গুদাম পরিচালনা ও পণ্য বিতরণের দায়িত্ব নিয়েছে। পরে তারা সেই কাজের জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিল। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি এমন কর্মী নিয়োগ করল, যাঁদের যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অনুমতি নেই।
এই ধরনের চুক্তির কাঠামোয় প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি না থাকলেও ওপরের স্তরের প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে দায় স্বয়ংক্রিয় নয়; সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনের শর্ত বিবেচনা করতে হবে।
অবৈধভাবে কাজ করতে দেওয়া একজন কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই দায় সাবকন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থার ওপরের স্তরেও বিস্তৃত হতে পারে।
এই পরিবর্তন নির্মাণশিল্প, গুদাম, পণ্য বিতরণ, পরিচ্ছন্নতাসেবা, শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থা এবং অন্যান্য ঠিকাদারনির্ভর ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডেলিভারি ও গিগ-ইকোনমির কর্মীরাও নজরদারিতে
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডেলিভারি, পরিবহন কিংবা অন্যান্য সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি যাচাইয়ের নিয়মও সম্প্রসারিত হয়েছে।
কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ করে দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাকে কাজের অনুমতি যাচাই করতে হতে পারে। একইভাবে ব্যক্তিগতভাবে সাবকন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ করা কিছু ব্যক্তিও নতুন বিধানের আওতায় আসতে পারেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক স্বনিয়োজিত ব্যক্তি বা সব ডেলিভারি চালকের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রকৃত স্বনিয়োজিত পেশাজীবী, যাঁরা নিজস্ব ব্যবসার মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিধানের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে।
ডেলিভারি বা গিগ-ইকোনমিতে কাজ করা বাংলাদেশিদের তাই নিজেদের কাজের ধরন, চুক্তি এবং যুক্তরাজ্যে কাজ করার অনুমতি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাইয়েও নতুন শর্ত
কাজের অনুমতি যাচাইয়ে ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবহারও নতুন বিধানের আওতায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার করলে, কাজের অনুমতি যাচাইয়ের জন্য সরকার-নিবন্ধিত ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার ব্যবহার করতে হবে। ফলে শুধু অনলাইন নথি বা কোনো অনানুষ্ঠানিক অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করলেই আইনগত দায়িত্ব পূরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়া, চুক্তি এবং সাবকন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগকর্তাদের জন্য সরকারি নির্দেশিকা:
ইমিগ্রেশন রেইডে সহযোগিতা সীমিত করছে লন্ডনের সাত কাউন্সিল
কাজের অনুমতি যাচাই নিয়ে সরকারি বিধান কার্যকর হওয়ার সময়েই অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে লন্ডনে বিতর্ক চলছে।
ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড-এর ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউহ্যাম, লুইশাম, ল্যামবেথ, হ্যাকনি, ওয়ালথাম ফরেস্ট, সাউথওয়ার্ক ও হ্যারিঙ্গে—এই সাতটি কাউন্সিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহযোগিতা সীমিত করার অবস্থান নিয়েছে।
লুইশাম কাউন্সিল ২২ জুলাই ২০২৬-এ এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে অন্য কয়েকটি কাউন্সিলও একই ধরনের অবস্থান নেয়। নিউহ্যাম কাউন্সিল অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেয়, স্পষ্ট আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলে তারা ইমিগ্রেশন রেইডে সক্রিয় সহায়তা করবে না।
কাউন্সিলগুলোর সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, তাদের তথ্য ভাগাভাগির ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা এবং অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করা। কিছু কাউন্সিল অভিবাসন অভিযানে স্থানীয় কর্মী, ভবন বা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে।
তবে এসব সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযান চালাতে পারবেন না। কাউন্সিলের নিজস্ব সম্পদ ও তথ্য ব্যবহারে সহযোগিতার নীতি এবং জাতীয় আইনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষমতা আলাদা বিষয়।
লন্ডন অ্যাসেম্বলির সমালোচনা
কাউন্সিলগুলোর অবস্থানের বিরোধিতা করে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ লন্ডন অ্যাসেম্বলি একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইনসম্মতভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
অ্যাসেম্বলির বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জাতীয় দায়িত্বের অংশ। মানব পাচার, শোষণ এবং সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রস্তাবটির পক্ষে সাতটি ভোট এবং বিপক্ষে চারটি ভোট পড়ে।
অন্যদিকে, সহযোগিতা সীমিত করার পক্ষে থাকা কাউন্সিলগুলোর অবস্থান হলো, অভিবাসীদের সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের নজরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাই আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়া কাউন্সিলের তথ্য ও সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
এভাবে একদিকে জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন আইন কার্যকরের পক্ষে সহযোগিতার যুক্তি, অন্যদিকে অভিবাসীদের আস্থা ও স্থানীয় সেবায় প্রবেশাধিকার রক্ষার যুক্তি—দুটি অবস্থানই সামনে এসেছে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য এর অর্থ কী?
নতুন বিধান এবং কাউন্সিলগুলোর সিদ্ধান্তকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কাজের অনুমতি যাচাইয়ের নিয়ম পুরো যুক্তরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য জাতীয় আইন। অন্যদিকে, স্থানীয় কাউন্সিলগুলো কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করবে, তা তাদের নীতি ও আইনগত দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং ডেলিভারি কর্মীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথমত, বৈধ কাজের অনুমতি নিশ্চিত করুন। ভিসার ধরন অনুযায়ী আপনি যে কাজ করতে পারবেন, সেটি করার অনুমতি রয়েছে কি না যাচাই করুন।
দ্বিতীয়ত, ব্যবসার চুক্তি পর্যালোচনা করুন। কর্মী সরবরাহকারী বা সাবকন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করলে কে কাজের অনুমতি যাচাই করছে, তা চুক্তিতে স্পষ্ট রাখুন।
তৃতীয়ত, শুধু সাবকন্ট্রাক্টরের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করবেন না। নতুন বিধানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চুক্তির ওপরের স্তরের প্রতিষ্ঠানও দায়ী হতে পারে।
চতুর্থত, কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে অভিযানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা মনে করবেন না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা সীমিত করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত ক্ষমতা বহাল থাকে।
পঞ্চমত, অধিকার সম্পর্কে জানুন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত পরামর্শদাতার সহায়তা নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না।
সামনে কী?
অবৈধ কর্মী নিয়োগ ঠেকাতে সরকার এখন শুধু সরাসরি নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভর না করে কর্মী সরবরাহের বৃহত্তর চুক্তিভিত্তিক কাঠামোর ওপরও নজর দিচ্ছে। একই সময়ে লন্ডনের কয়েকটি কাউন্সিল অভিবাসন অভিযানে সহযোগিতার সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য মূল বিষয় হলো, স্থানীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে জাতীয় অভিবাসন আইন স্থগিত হয়ে যায়নি। কাজের অনুমতি, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং সাবকন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থার নিয়ম কার্যকর রয়েছে। ফলে কর্মী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—উভয়েরই নিজেদের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।