‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
এআইয়ে ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা ব্রিটেনের, চাকরি ও সাইবার নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ অক্টোবর :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। শনিবার প্রকাশিত এ উদ্যোগে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি কোম্পানিকে সহায়তা, উন্নত চিপ নকশা এবং এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে পরিবর্তন নিয়ে গবেষণার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, এআইয়ের অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখা।
জীবাণুজনিত হুমকি মোকাবিলায় ১৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড
এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক জীবাণু শনাক্তকরণ ও রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে নতুন এআই বায়োসিকিউরিটি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় এবং ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড জীবাণুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার গবেষণায়।
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের এআই মডেল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গুগল ডিপমাইন্ড এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বেসক্যাম্প রিসার্চও গবেষণায় সহযোগিতা করবে।

সাইবার নিরাপত্তায় ১৩০ মিলিয়ন পাউন্ড
সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে ১৩০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে ন্যাশনাল সাইবার শিল্ড কর্মসূচিতে। বাকি ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ন্যাশনাল এক্সপোজার অ্যান্ড রিয়েল-টাইম ভালনারেবিলিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
এআই ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, পরিবহন, আর্থিক পরিষেবা ও সরকারি ব্যবস্থার সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব যাচাই
এআইয়ের কারণে কিছু পেশায় কর্মীর চাহিদা কমতে পারে, আবার প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই পরিবর্তন বুঝতে বছরে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ ছাড়া আগামী তিন বছরে এআইয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য ২৩ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তবে এআইয়ের কারণে কতটি চাকরি সৃষ্টি বা বিলুপ্ত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও চিপ নকশায় বিনিয়োগ
ব্রিটিশ এআই কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দিতে সার্বভৌম এআই তহবিলে অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হবে। এআই গবেষণা ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পে আরও ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নত চিপ নকশায় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নতুন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দিয়ে সমস্যা সমাধানে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের পুরস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
লন্ডনের বাইরেও প্রযুক্তির সুযোগ
আঞ্চলিক পর্যায়ে এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে মেয়রদের জন্য ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ম্যানচেস্টারে এআই সাইবার নিরাপত্তার উৎকর্ষকেন্দ্র এবং এডিনবরায় উন্নত চিপ নকশার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?
ব্রিটেনে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের জন্যও এআইয়ের প্রসার গুরুত্বপূর্ণ। হিসাবরক্ষণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকসেবার কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় হতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
তাই ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ গ্রহণ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের জন্য সরাসরি কতটি চাকরি তৈরি হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়।
বাস্তবায়নই হবে সাফল্যের পরীক্ষা
ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কর্মীরা কতটা প্রশিক্ষণের সুযোগ পান এবং নতুন প্রযুক্তি অর্থনীতিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে তার ওপর। বিনিয়োগের ঘোষণা নিজে থেকেই নতুন চাকরি বা অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করে না।