ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: পুনরায় যুদ্ধের আশঙ্কা, হামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
ভয়েস অব পিপল আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর :
মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা, সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান এবং ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে। একই সময়ে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আসন্ন নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আশঙ্কা, তেলের বাজারে উদ্বেগ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হলে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। তেহরান মার্কিন সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে। দুই দেশের উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। এতে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুথিরা বিমানবন্দরটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা না হলে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানও নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলো হুমকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবে হামলা, রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু:

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল পুনরায় চালু হয়েছে। তবে নতুন হামলার আশঙ্কায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা:

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানে শত শত ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ইসরায়েলে নির্বাচন:

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে দেশটির নিরাপত্তানীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমত যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনে সংঘাত, লোহিত সাগরে নৌবাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ:

ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া, সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কূটনৈতিক সমাধান ও সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ না বাড়লে এর অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য আরও বাড়তে পারে।