শতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, কোথায় কে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন

শতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, কোথায় কে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছেন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৫ ডিসেম্বর: 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক আসনে। এতে অনেক জায়গায় দলীয় প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা তৈরি হয়েছে। নিজ দলের ঠিক এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ (২৫ ডিসেম্বর) দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরে গেছেন লন্ডন থেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, বিএনপিকে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে এখনই শক্তিশালী দলীয় ঐক্য ও মাঠের বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি এবং একমাত্র তারেক রহমানের পক্ষেই সেটা সম্ভব। সেটা করতে তিনি ব্যর্থ হলে  বিএনপির পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পাওয়া কোনভাবেই সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী 

নিচে প্রধান ও আলোচিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নাম ও আসনভিত্তিক তালিকা তুলে ধরা হলো—

  • পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা): হাসান মামুন (বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য)

  • সাতক্ষীরা–৩ (আশাশুনি–কালীগঞ্জ): ডা. শহিদুল আলম (বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য)

  • ঝিনাইদহ–৪ (কালীগঞ্জ): সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা)

  • নোয়াখালী–২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক): কাজী মফিজুর রহমান (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য)

  • নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবীরহাট): হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ

  • মাগুরা–২ (শালিখা–মোহাম্মদপুর): কাজী সালিমুল হক কামাল (সাবেক এমপি)

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ আংশিক): রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র হওয়ার প্রস্তুতি)

  • চট্টগ্রাম–১৫: মুজিবুর রহমান (দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক)

  • কুমিল্লা–২: এম এ মতিন (খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস)

  • কুমিল্লা–৭: আতিকুল আলম শাওন (উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক)

  • সুনামগঞ্জ (সদর–বিশ্বম্ভরপুর): দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন

  • টাঙ্গাইল–১: মোহাম্মদ আলী (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য)

  • টাঙ্গাইল–৩: লুত্ফুর রহমান খান আজাদ (সাবেক এমপি)

  • টাঙ্গাইল–৫: ফরহাদ ইকবাল (জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)

  • টাঙ্গাইল–৭: সাইদুর রহমান সাঈদ সোহরাব

  • ময়মনসিংহ–৯: পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন

  • ঠাকুরগাঁও–২: জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী (সাবেক এমপি)

  • হবিগঞ্জ–১: শেখ সুজাত মিয়া (সাবেক এমপি)

  • সিলেট–৫: মামুনুর রশিদ

  • গোপালগঞ্জ–২: এম সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তৃণমূলে ক্ষোভ ও বিভক্তি এতটাই গভীর যে অনেক ক্ষেত্রেই এই সতর্কবার্তা বিদ্রোহ থামাতে পারছে না। অনেক আসনে স্বতন্ত্র এবং দলীয়ভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন প্রার্থীরা। তালিকা ঘোষণার পর দলের ভেতর অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। তৃণমূল নেতাদের মতে, খুব দ্রুত এসব কোন্দল নিরসন না হলে নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে।