ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

গরমে ‘চুল্লি’ হয়ে উঠেছে লন্ডনের টিউব, সেন্ট্রাল লাইনে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি

গরমে ‘চুল্লি’ হয়ে উঠেছে লন্ডনের টিউব, সেন্ট্রাল লাইনে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি

লন্ডন | ডেইলি ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৬ জুন: 

রেকর্ড গরমে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেলব্যবস্থা যেন যাত্রীদের জন্য এক চলমান চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর বাইরের তাপমাত্রা যখন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন কিছু টিউব লাইনের ভেতরে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ৪০ ডিগ্রিতে। ফলে কর্মজীবী মানুষদের প্রতিদিনের যাতায়াত হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।

সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লন্ডনের সবচেয়ে গরম টিউব লাইন হিসেবে আবারও শীর্ষে রয়েছে সেন্ট্রাল লাইন। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই রয়েছে জুবিলি লাইন (৩৭.২ ডিগ্রি), বেকারলু লাইন (৩৬.৪ ডিগ্রি), পিকাডিলি লাইন (৩৩.৭ ডিগ্রি), ভিক্টোরিয়া লাইন (৩৩.৬ ডিগ্রি) এবং নর্দার্ন লাইন (৩৩ ডিগ্রি)।

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে অনেক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে এলিজাবেথ লাইন, মেট্রোপলিটন লাইন এবং হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড সিটি লাইন, যেখানে তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৩ ডিগ্রির মধ্যে ছিল।

যাত্রীরা বলছেন, বিশেষ করে সেন্ট্রাল লাইনের গভীর টানেল ও পুরোনো অবকাঠামো গরমকে আরও অসহনীয় করে তুলছে। ব্যাংক স্টেশনের এসকেলেটর দিয়ে নিচে নামার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এক যাত্রী বলেন, “মনে হয় যেন নরকে নামছি।”

আরেক যাত্রী জানান, ট্রেনে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি ঘামে ভিজে যাচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ওভারগ্রাউন্ড ট্রেন কিংবা বাস ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডনের অনেক টিউব লাইন ভিক্টোরিয়ান যুগে নির্মিত হওয়ায় সেখানে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বসানো অত্যন্ত কঠিন। অধিকাংশ টানেল এতটাই সংকীর্ণ যে নতুন করে এয়ার কন্ডিশনিং সরঞ্জাম স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

বর্তমানে সেন্ট্রাল, বেকারলু, জুবিলি, ভিক্টোরিয়া, নর্দার্ন, ওয়াটারলু অ্যান্ড সিটি এবং পিকাডিলি লাইনে পূর্ণাঙ্গ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। ফলে গ্রীষ্মকালে এসব লাইনের যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়।

পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে লন্ডনে আরও ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তাদের মতে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে লন্ডনের আবহাওয়া দক্ষিণ ইউরোপের অনেক শহরের মতো উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন তীব্র গরম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন ঘটছে। এর প্রভাব শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নয়, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে।

পরিবহন সংস্থা টিএফএল (TfL) জানিয়েছে, তারা নতুন প্রজন্মের ট্রেন চালু করা, তাপ উৎপাদন কমানো এবং যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করছে। তবে পুরোনো টানেল ও অবকাঠামোর কারণে দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলেও সংস্থাটি স্বীকার করেছে।

রেকর্ড গরমের এই সময়ে লন্ডনের হাজারো যাত্রীর কাছে প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন টিউবের ভেতর এমন ‘সাউনা’ পরিবেশ সহ্য করতে হবে?