প্যালেস্টাইনপন্থি ও পাল্টা ডানপন্থি সমাবেশে উত্তেজনা, কঠোর নিরাপত্তায় ছিল সেন্ট্রাল লন্ডন

লন্ডনে নাকবা দিবস ঘিরে নজিরবিহীন জনসমাগম

লন্ডনে নাকবা দিবস ঘিরে নজিরবিহীন জনসমাগম

কমিউনিটি ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ফিলিস্তিনের ইতিহাসে বেদনাবিধুর দিন ‘নাকবা ডে’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।

আয়োজক সংগঠনগুলোর জোট ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি নেতা টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পাল্টা একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ (Metropolitan Police Service) চার হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। পুলিশ এই পরিস্থিতিকে “নজিরবিহীন জননিরাপত্তা অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে গ্রেফতারদের কোন সমাবেশ থেকে আটক করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

মিছিলে ফিলিস্তিনের পতাকা, কেফিয়েহ এবং নানা ব্যানারে অংশগ্রহণকারীরা সেন্ট্রাল লন্ডনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একই সময়ে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি থাকলেও কঠোর পুলিশি ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ রাজনীতির একাধিক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে ছিলেন Jeremy Corbyn, Diane Abbott এবং Zarah Sultana। বক্তারা গাজায় চলমান পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমা নীতির সমালোচনা করেন।

লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী জন ম্যাকডোনেল অভিযোগ করেন, গাজায় মানবিক সংকট অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে পাল্টা সমাবেশ ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’-কে “একতা ও সচেতনতার কর্মসূচি” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসন।

সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও কঠোর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশির ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জনসমাবেশ পর্যায়ে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ, যদিও তা মূল মিছিল রুটে ব্যবহার করা হয়নি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি একই দিনে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপ ফাইনাল থাকায় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগানকে ঘিরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর এই সমাবেশটি ছিল ফিলিস্তিনপন্থি বড় কর্মসূচিগুলোর অন্যতম।

আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, এই মিছিল কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও বর্তমান সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি প্রতীকী কর্মসূচি।

দিনশেষে লন্ডনের রাস্তায় দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান মুখোমুখি হলেও বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সফলতা হিসেবে দেখছে প্রশাসন।